মেইন ম্যেনু

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজার বন্দির রোজা

কারাগার তো অপরাধীদের রাখার জায়গা। তাই বলে কি সেখানে ধর্মকর্ম থাকবে না? রমজান মাসে মুসলিম বিশ্ব সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে নিষ্ঠার সাথে পালন করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মোসলমানের দেশের কারাগারে তার ব্যতিক্রম কেন ঘটবে? ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজারের বেশি বন্দি নিয়মিত রোজা রাখছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ তারাবিও পড়ছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, এখানে বন্দি সংখ্যা ৭ হাজার ২৬২ জন। এর মধ্যে রোজা রেখেছেন ৬ হাজার ২২৪ জন। তাদের ইফতারির জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাথাপিছু ২০ টাকা ৬৪ পয়সা। ইফতারিতে দেওয়া হচ্ছে- ৫ গ্রাম খেজুর, ৫০ গ্রাম মুড়ি, সাড়ে ৭ গ্রাম পিঁয়াজু, ১০০ গ্রাম ছোলা, ১টি সাগরকলা, ৭ গ্রাম গুড়, ৫ গ্রাম জিলাপি (১টি), ৩ গ্রাম চিড়া ও পানি।

তবে ভিআইপি বন্দিদের জন্য বরাদ্দ একটু বেশি। তাদের মাথাপিছু বরাদ্দ ২৪ টাকা ১১ পয়সায় একই মেন্যু দেয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ বন্দিরা পান একটি পিঁয়াজু, আর ভিআইপিরা পান দু’টি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমান ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা।

কারাসূত্রে জানা যায়, রমজান মাস উপলক্ষে কারাগারের সব বন্দিকেই রাতে ও সেহেরিতে মাছ মাংস দেয়া হয়। সাথে থাকে সবজি।

তবে যারা রোজা থাকে না, তাদের দুপুরে খাবার দেয়া হয়।

রজমানে বন্দিদের নিরাপত্তার স্বর্থে বাইরের ইফতার প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। তবে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় নিয়ম শিথিল করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. আনজু।

তিনি জানান, রোজাদার বন্দি ও কয়েদিদের ইফতারের আয়োজন দুপুর ১২টা থেকেই শুরু হয়ে যায়। রাতে বন্দিরা নিজ নিজ ওয়ার্ডে নামাজ আদায় করেন।

রমজানে বন্দিদের ইফতার প্রসঙ্গে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘অনান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে বন্দিদের কাজের মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়। বন্দিদের খাওয়া-দাওয়ায় যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সে জন্য কারারক্ষীদের বিশেষ সিআইডি ডিউটিতে রাখা হয়।’