মেইন ম্যেনু

ঢাবি’র কনিষ্ঠ শিক্ষক আমিনা রিংকির জীবনের গল্প

আমিনা রিংকির জন্ম গাজীপুরের শ্রীপুরে। কৈশোরে বেড়ে ওঠার দিনগুলো কাটে শ্রীপুরের আবদাব গ্রামে। বাবা পুলিশ পরিদর্শক। মা শিক্ষক। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। ছোট বোন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছেন। নিয়ম-নীতির মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন। সবেমাত্র কর্মজীবন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক পদে।

সম্প্রতি তার সাথে আড্ডা জমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অফিসে। আজ আপনাদের শোনাবো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তরুণ প্রভাষক আমিনা রিংকির জীবনের গল্প। তাহলে শুনুন তার মুখেই।

আপনার জন্ম, শৈশবের দিনগুলোর কথা বলুন?

আমার জন্ম গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে হলেও আব্বুর চাকুরির সুবাদে আমাদের থাকা হয় রাজশাহীতে। আব্বু পুলিশ পরিদর্শক। তখন রাজশাহীতে পোস্টিং ছিল। তাই আমার জন্মের পর থেকে সেখানেই বেড়ে ওঠা।পাঁচ বছর বয়সে আব্বু আমাকে নিয়ে আসেন গাজীপুরে স্কুলে ভর্তি কারাতে। স্কুলে ভর্তি হবো শুনে তো আমি মহা খুশি। আব্বু আমাকে আবদাব বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গেলেন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করার জন্য। তখন ছিল সেপ্টেম্বর মাস। বছরের শেষ সময়। স্কুল থেকে জানানো হলো-এ সময় কাউকে স্কুলে ভর্তি করা হয় না।

আব্বু বললেন ও তো সবই পারবে। ওকে একবার পরীক্ষা নিয়ে দেখেন না? তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করেন, আর আমি ঠিকঠাক মতো সব প্রশ্নের উত্তর দিলাম। ভাল করলাম। এর কারণ হলো আমার আম্মু তো শিক্ষক। একদম ছোট থেকেই আমাকে প্রাথমিক শিক্ষার সব পড়া ঠিক মতো পড়াতেন। আমিও গড়গড় করে সব প্রশ্নের উত্তর বলে দেই। তখন স্যার আমার মেধা দেখে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করে দিলেন। আমি ক্লাস ওয়ানে মাত্র তিন মাস ছিলাম। সেপ্টেম্বরে ভর্তি হয়েছি। ডিসেম্বরে পাস করে ক্লাস টু’তে উঠলাম। এভাবেই শুরু হয় আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার জীবন।

প্রাইমারি স্কুলের পড়ালেখার জীবনটা কেমন ছিল?

ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত আমার রোল নম্বর ২ বা ৩ এর মধ্যেই থাকতো। প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে যেতাম। মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকদের কথা শুনতাম, বাড়ির কাজ ঠিক মতো করতাম। ছোটাছুটি, দুষ্টুমি, ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি এগুলো কিছুই পছন্দ করতাম না। চুপচাপ, নম্রভদ্র শান্ত স্বভাবের একজন লঙ্ক্ষী মেয়ে ছিলাম। বন্ধুবান্ধব ছিল কম। তাই খেলার মাঠ, আড্ডা, ঘোরাফেরা এগুলো কম ছিল। বাড়ি থেকে স্কুল আর পড়াশুনা ছিল আমার শৈশবের পৃথিবী। পড়াশুনার বাইরে তেমন কিছুই করা হয় নি। এর ফল হিসেবে ক্লাস ফাইভে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাই।

ছোটবেলায় কী হওয়ার ইচ্ছে ছিল?

পড়াশুনা নিয়ে আমার আব্বু-আম্মুর সাথে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আব্বু-আম্মু চাইতো আমি যেন সাইন্স নিয়ে পড়ালেখা করে ডাক্তার হই। কিন্তু আমার ডাক্তার হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। আমার ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে আম্মুর মতো একজন শিক্ষক হবো। এ বিষয়টাকে নিয়ে নিজের সাথেও আমাকে অনেক মানসিক যুদ্ধ করতে হয়েছে। কী করবো? বলতে গেলে অনেকটা জেদ করেই এসএসসিতে মানবিক বিভাগে আসা। কারণ আমার স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে।

এবার হাইস্কুল জীবনের গল্প শুনতে চাই?

প্রাইমারির মতোই শুরু হয় আমার হাইস্কুলের জীবন। তেমন কোনো পরিবর্তন হয় নি। নিয়মিত স্কুল, ক্লাস, পড়াশুনা নিয়েই সব সময় ব্যস্ত থাকতাম। আমার পড়শুনার বিষয়ে আব্বু-আম্মুর কখনও কিছু চিন্তা করতে হয় নি। সারা দিন শুধু বই পড়তাম। হাইস্কুল থেকেই আমার গল্পের বই পড়ার প্রতি ঝোঁক আসে। তখন আমি অনেক গল্পের বই পড়তাম। গল্পের বই পড়াটা একটা নেশার মতো হয়েছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় পেলেই গল্পের বই পড়তাম। ক্লাসের পড়াশুনা রেখে গল্পের বই পড়তাম দেখে আম্মু আমার অনেক গল্পের বই টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। তবুও লুকিয়ে রাত জেগে আমি গল্পের বই পড়তাম। বই পড়াটা একটা নেশার মতো ছিল।

কোন ধরণের গল্পের বই বেশি পড়তেন?
যখন ক্লাস সিক্স, সেভেনে পড়তাম তখন আলিফ লায়লা, রূপকথা এ রকম বই পড়তে পছন্দ করতাম। তখন আমি বুঝতে পারতাম না কোনটা পড়ব। সব ধরণের গল্পের বই পড়তাম। পরে আস্তে আস্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের গল্প, কবিতা, উপন্যাসগুলো পড়তে আমার বেশি ভাল লাগে। এছাড়াও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব লেখাই পড়তাম। সমসাময়িক লেখকদের লেখা গল্প, উপন্যাস, কবিতাও ভাল লাগতো। আরেকটি মজার বিষয় হলো- সে সময় আমি সেবা প্রকাশনীর সবগুলো অনুবাদ সাহিত্য পড়েছি।

আমি যে বইগুলো পড়তাম সব বই আমি নিজে কিনে পড়েছি। প্রতিদিন আম্মু আমাকে স্কুলে টিফিন খেতে যে টাকা দিতেন সেগুলো টিফিন না খেয়ে জমিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আমি বই কিনে পড়তাম। গল্পের বই কেনার জন্য আমাকে কোনো টাকা দেয়া হতো না। বইগুলো দিয়ে আমি একটা ছোট লাইব্রেরি করেছি। এখানে আছে ছোট গল্পের বই, কবিতার বই, উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনী, অনুবাদ সাহিত্য, রাজনৈতিক বিষয়ের বই ইত্যাদি। লাইব্রেরির সব বই আমার কেনা। কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে বই কিনে নিজের তৈরি লাইব্রেরি দেখে এখন ভীষণ ভাল লাগে।

হাইস্কুলের রেজাল্টের বিষয়ে যদি বলতেন?

আমার স্কুল জীবনের পড়ালেখা করাটা এতো সহজ ছিল না। অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। গ্রামাঞ্চলে তখনও তথ্যপ্রযুক্তির এতো ছোঁয়া লাগেনি। ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ফেসবুক, টু্ইটার বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের এতো সহজলভ্যতা ছিল না। এসএসসি’র রেজাল্টের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০০৭ সালে মফস্বল থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পাওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। এখন যেমন চারিদিকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ এর ছাড়াছড়ি। সেসময় গ্রাম অঞ্চলে জিপিএ ৫ ছিল সোনার হরিণের মতো। ২০০৭ সালে আমাদের গাজীপুর জেলা থেকে মানবিক বিভাগে মোট ৩জন জিপিএ ৫ পাই। আমি তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।

কলেজের দিনগুলো কীভাবে কেটেছে?

এসএসসি পাস করে গ্রাম থেকে চলে আসি ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনের ৪টি স্বপ্ন ছিল-এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া, ভিকারুননেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভর্তি হওয়া ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া। এসএসসিতে পাস করে আমার জীবনের প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয়। ২০০৭ সালের আগস্টে ভিকারুননেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়ে আমার দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণ হলো। আগে টেলিভিশনে দেখতাম প্রতিবছর এইচএসসির রেজাল্ট বের হলে ভিকারুননেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রেজাল্ট খুব ভাল করে। ছাত্রীরা বাঁধভাঙা আনন্দ করে। তাছাড়া পরিবেশও ভাল তাই এটা আমার একটা স্বপ্নের কলেজ ছিল। আমার কলেজ জীবনের দিনগুলো ছিল রুটিনবদ্ধ। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, পড়াশুনা। কলেজের টিচাররা ছাত্রীদের পড়াশুনার বিষয়ে অনেক যত্নশীল। কিভাবে একজন ছাত্রী তার জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করবে, ভাল শিক্ষা লাভ করবে সব সময়ই গাইড করতো। কোনো গণ্ডগল, রাজনীতির ছোঁয়া নেই ওখানে। পড়ালেখার জন্য এটি উপযুক্ত পরিবেশ। আমার অভিজ্ঞতায় সুশিক্ষার জন্য ভিকারুননেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অনেক ভাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত সালে ভর্তি হয়েছিলেন? কোন বিভাগে?

২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ওরিয়েনটেশন ক্লাস দিয়ে শুরু হয়েছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হই। আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগত বিষয়টি। আগে থেকেই এবিষয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। এটি এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে সত্যকে তুলে ধরা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটা কেমন ছিল?

আমার পড়ালেখার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কেটেছে ভার্সিটির দিনগুলোতে। প্রাইমারি থেকে কলেজ পর্যন্ত জীবনটা ছিল গণ্ডির মধ্যে। ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনটা সম্পূর্ণ বিপরীত। ব্যতিক্রম একটা জীবন। এ পৃথিবীটা অনেক বিশাল। আমার অভিজ্ঞতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটা হলো মুক্তির লাইফ। নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ। আমার বেগম রোকেয়া হলের স্মৃতিগুলো অনেক মনে পড়ে। স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত একজন সন্তান বাবা-মার কাছে বাচ্চাই থাকে। তার প্রতিদিনকার জীবনের সব কিছু বাবা-মা করে দেয়। ভাত বেড়ে দেয়, কাপড়টা ধুয়ে দেয়, বিছানাটা গুছিয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের জীবনে এসব কাজ নিজেকেই করে নিতে হয়। পড়াশুনা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, সংঘ-সমিতি, মিটিং-মিছিল, আড্ডা সব কিছুই নিজে থেকে করতে হয়। কোনো সমস্যা হলেও নিজেকেই সমাধান করতে হয়। কেউ ভাল হবে না খারাপ হবে এটাও নির্ভর করে নিজের ওপর। হল লাইফটা হলো নিজেকে তৈরি করার সময়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরির সময়।

হল লাইফে কোনো কষ্ট ছিল না?

হল লাইফে কষ্ট আছে। এক সাথে থাকতে গেলে কিছু কষ্ট করতে হয়। তবে কষ্টের চেয়ে আনন্দই বেশি। এক সাথে চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাফেরা সব কাজেই অনেক আনন্দ। প্রতিটি দিনেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। অনুভূতিটাও ছিল অনেক আবেগের আর ভালোলাগার। ওই দিনগুলোর কথা জীবনে কখনও ভুলতে পারব না। অনেক মিস করি এখনও। আমি হল লাইফটা ভীষণ উপভোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছি। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, স্নেহ-ভালবাসা, সুন্দরমনের মানুষ হওয়ার শিক্ষা অনেক কিছু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।

আপনার মাস্টার্সের থিসিসের বিষয়বস্তু কী ছিল? এ বিষয়ে কিছু বলুন-

আমার মাস্টার্সের থিসিসের বিষয়টা ছিল অনেক মজার। থিসিসের বিষয়বস্তু ছিল-‘টেলিফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে অবাচনিক যোগাযোগের ব্যবহার: একটি সংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত’। সাধারণত দুই ধরণের যোগাযোগ হয়ে থাকে। একটা বাচনিক যোগাযোগ আরেকটা অবাচনিক যোগাযোগ। আমরা কণ্ঠের মাধ্যমে যেটা করি সেটা হলো বাচনিক যোগাযোগ। আর যেটা কণ্ঠ ছাড়া কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে করা হয় সেটা অবাচনিক যোগাযোগ। টেলিভিশনে যেসব বিজ্ঞাপন দেয় এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমটা হলো অবাচনিক যোগাযোগ। এক গবেষণায় দেখা গেছে আমরা প্রতিদিন ৬৫% অবাচনিক যোগাযোগ করে থাকি। টেলিভিশন কোম্পানি বিজ্ঞাপনে যেসব অবাচনিক যোগাযোগ হয় এটা আমাদের সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিলেন কত তারিখে?
২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেই। এখানে একটা মজার ঘটনার কথা বলতে চাই। ২০১০ সালে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ওরিয়েনটেশন ক্লাস দিয়ে শুরু হয়েছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। আবার ৬ বছর পরে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একই দিনে আমি এ প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে তরুণ প্রভাষক হিসেবে যোগ দেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার বিষয়ে আগে কি কখনও চিন্তা করেছেন?

আমি কখনও ভাবিনি এখানে পড়াশুনা করে এখানেই আবার শিক্ষকতা করার সুযোগ পাব। এটা আমার স্বপ্নেরও বাইরে ছিল। ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম আমি একজন শিক্ষক হবো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে সে স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে এটা ভাবতেই পারি নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক স্টুডেন্টেরই একটা স্বপ্ন থাকে এখানে পড়াশুনা করে এ বিভাগেই থেকে যাব। কিন্তু সে স্বপ্নটা তারাই পূরণ করতে পারে যারা সৌভাগ্যবান। আমি নিজেকে আজ সৌভাগ্যবান মনে করছি।

প্রথম দিনের ক্লাস নেয়ার অনুভূতিটা জানতে চাই?

এখানেই পড়াশুনা করে আবার এখানেই একদম তরুণ শিক্ষক বা প্রভাষক হিসেবে আমার প্রথম ক্লাস নেই ৮ম ব্যাচের পঞ্চম সেমিস্টারের স্টুডেন্টদের। ওইদিন স্টুডেন্টরা ক্লাসে অনেক ভাল ছিল। ক্লাস নেয়ার অনুভূতিটা ছিল অনেক আনন্দের। আরেকটা ঘটনা ঘটে ক্লাস শেষে। আমি যখন ক্লাস শেষ করে অফিসে ঢুকছিলাম তখন কয়েকজন ছাত্র ফুল হাতে নিয়ে এসে বলে যে, ম্যাম আজ আপনি প্রথম ক্লাস নিয়েছেন। অনেক ভাল লেগেছে। আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন। আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় তারা। এটা আমার অনেক ভাল লেগেছে।

শিক্ষকতা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

যেহেতু আমি শিক্ষকতা পেশায় এসেছি তাই এখন এটা আমার আর পেশা না নেশাই বলতে চাই। এ পেশাকে নিয়ে আমার ভবিষ্যৎপরিকল্পনা হলো- আমি একজন ভাল ও আদর্শ শিক্ষক হতে চাই। আমি আমার সবটুকু শিক্ষকতায় উৎস্বর্গ করতে চাই। আমি এমন একজন শিক্ষক হতে চাই যেন স্টুডেন্টরা আমাকে শিক্ষকদের আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। আমি নিজেকে গবেষণায় ব্যস্ত রাখতে চাই। ২ বছর পরে পিএইচডি করার ইচ্ছে আছে।

এবার বিয়ে, স্বামী সংসার নিয়ে কিছু বলুন?
আমি বিবাহিত। এখনও আমার বাবা-মার সাথে আছি। আমার স্বামী একজন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা। তিনি এখন কুয়েতে একটা মিশনে আছেন। বাবা-মা আর আমার আদরের ছোট বোন। এ নিয়েই আমার বর্তমান পৃথিবী। বাবাও পুলিশ পরিদর্শক। মা শিক্ষক। ছোট বোন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ফাস্টইয়ারে পড়ে। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত।

প্রিয় শখ আর অপছন্দগুলো কী কী?

গল্পের বই পড়া, নতুন নুতন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো, মুভি দেখা আর গান শুনতে বিশেষভাবে রবীন্দ্র সংগীত শুনতে ভীষণ পছন্দ করি। আর আমি মিথ্যাকে অপছন্দ করি।দৈনিক শিক্ষা