মেইন ম্যেনু

ঢাবির চোখ ধাঁধানো অত্যাধুনিক ই-লাইব্রেরী

চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা। ঝকঝকে চতুর্পাশ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মনোরম কক্ষ। আছে পড়ার জন্যে প্রয়োজনীয় সুসজ্জিত সব আসবাব পত্র। হাত বাড়ালেই প্রয়োজনীয় দেশী-বিদেশী সব জার্ণাল। বিশ্বের শীর্ষস্হানীয় ৩৫ টি লাইব্রেরীর অনলাইন সংযোগ। চাইলেই এক ক্লিকে ঘুরে আসা যাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সেসব আঁতুড় ঘর থেকে। এক সময় এসব অলীক কল্পনা মনে হলেও কালের বিবর্তনে তা বাস্তব হতে চলেছে। আর আলাদীনের চেরাগের মত এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ। অনুষদটি চালু করতে যাচ্ছে প্রথম ডিজিটাল ই-লাইব্রেরী।

যার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাবে বিশ্বমানের সব সুযোগ সুবিধা। সকল প্রস্তুতি শেষে উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় দেশের প্রথম ই-লাইব্রেরী। ডিজিটাল ই-লা্ইব্রেরী প্রতিষ্ঠার জন্য গত বছরের ১০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কম্পিউটার, ওয়াই-ফাই সংযোগ সহ প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে টেলিকম কোম্পানীটি। আর কো-ফিন্যান্সার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করেছে ডেল, ওরিয়ন গ্রুপ ও লজিক সফটওয়্যার।

43

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের দ্বিতীয় তলায় দেখা মিলবে এ লাইব্রেরীর। পূর্ব-পশ্চিম বারো হাজার বর্গফূট জায়গা জুড়ে অবস্থিত এটি। ভিতরে ঢুকলে সফেদ আলো যে কারো মনে স্নিগ্ধতার পরশ বুলাতে বাধ্য। রয়েছে টিচার্স লাউঞ্জ, দুইটি টিচার্স মিটিং রুম, স্টুডেন্টস রিডিং রুম, স্টুডেন্টস ডিসকাশন রুম, এমফিল ও পিএইচডি স্টুডেন্টস রুম, সার্ভার রুম, জার্ণাল সেকশন রুম, ব্রাউজিং সেকশন, ফটোকপি এন্ড পেইন্টিং সেকশন, ওয়েটিং রুম এবং ক্যাফেটারিয়া।

শিক্ষার্থী ও গবেষকরা ই-লাইব্রেরীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল জার্ণাল ও বই সহ বিশ্বের প্রথম সারির ৩৫ টি লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় এমন সকল জার্ণাল ও বই পড়তে পারবে। ঢাবির ব্যবসায় অনুষদ ছাড়াও অন্যান্য অনুষদ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরাও কিছু শর্তসাপেক্ষে এ ই-লাইব্রেরীর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। লাইব্রেরীর সদস্যদেরকে ম্যাগনেটিক পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। এ আইডি কার্ড ব্যতীত কোন শিক্ষার্থী লাইব্রেরীর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না।

26

নতুন এ লাইব্রেরীকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পিছিয়ে নেই শিক্ষকরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন কৌশিক জানান, এ লাইব্রেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব র‌্যাংকিং এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আরেক শিক্ষার্থী জুলফিকার জানান, বিশ্ব র‌্যাংকিং-এর পথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর থেকে আমরা শুধু প্রযুক্তিগত দিক দিয়েই পিছিয়ে ছিলাম। ডিজিটাল ই-লাইব্রেরী আমাদের সে অভাব অনেকটাই পূরণ করবে। যার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও র‌্যাংকিং-এ প্রথম দিকে নিজের অবস্থান করে নিতে সক্ষম হবে।

বিশ্ব র‌্যাংকিং কিংবা শিক্ষার মান উন্নয়ন, যাই হোক না কেন, দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যাধুনিক এ ই-লাইব্রেরী যে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ তাতে সন্দেহ নেই কারোরই। এর মাধ্যমেই শুরু হোক দেশের শিক্ষাব্যবস্হার উর্ধ্বযাত্রা এ প্রত্যাশা সবারই।