মেইন ম্যেনু

ঢাবির ১৬ স্থানে নেশাখোরদের বিচরণ, আতঙ্কে ছাত্রীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে বেরিয়ে ফজলুল হক হলের ভেতর দিয়ে টিএসসির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। হঠাৎ নেশাগ্রস্ত এক লোক তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি মাটিতে পড়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে ছাত্ররা এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মেয়েটির আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল আলাপকালে তিনি জানান, সুফিয়া কামাল হলের দেড় হাজার মেয়েকে প্রতিদিনই এমন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। কারণ, হল থেকে বেরিয়ে কার্জন হল কিংবা কলাভবনে আসার পথে ভবঘুরে আর নেশাখোরদের দৌরাত্ম্য।খবর প্রথম আলো’র।

সুফিয়া কামাল হলের বাসিন্দা বাংলা বিভাগের ছাত্রী স্বর্ণা আক্তার বলেন, ১৫ এপ্রিল সুফিয়া কামাল হল থেকে বেরিয়ে আনন্দবাজার যাওয়ার পথে এক মাতাল তাঁর হাতে খামচি দিয়ে দৌড়ে চলে গেছে।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে সুফিয়া কামাল হলের উল্টো দিকের রাস্তায় কয়েকজন ভবঘুরেকে দেখা গেছে। শবনম আজিম নামের এক ছাত্রী বলেন, এখান দিয়ে কোনো মেয়ের হেঁটে যাওয়া কষ্টকর। এ কারণে মেয়েরা ছেলেদের হলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু আশপাশে ভবঘুরেরা থাকে। হলের যেসব মেয়ে টিউশনি করে সন্ধ্যার পর ফিরে আসে, তারা যদি কখনো কেউ রিকশা না পায় তাহলে তিন নেতার কবর বা কার্জন হলের সামনে দিয়ে হেঁটে আসতে হয়। এ পথ দিয়ে হেঁটে আসাটা এখন খুবই কঠিন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনের ফুটপাতসহ এই এলাকায় গাঁজার গন্ধে হাঁটা দায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বলছেন, মূল ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানের কারণে সুফিয়া কামাল হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের ছাত্রীদের সবচেয়ে বেশি তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন ১৬টি স্থানের কথা জানা গেছে।

এর মধ্যে সুফিয়া কামাল হলের সামনের পদচারী-সেতু, হলের উল্টো দিকের রাস্তা, কার্জন হলের সামনের ফুটপাত থেকে দোয়েল চত্বর, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত রাস্তা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তা থেকে জগন্নাথ হলের সামনে পর্যন্ত, শামসুন নাহার হলের সামনে, টিএসসির উল্টো দিকের সোহরাওয়ার্দী গেটের পাশে, শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত যাওয়ার ফুটপাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে, তিন নেতার কবরের আশপাশে, শহীদুল্লাহ্ হলের সামনের রাস্তায়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে যাওয়ার পথে গুরুদুয়ারার সামনে, নির্মাণাধীন শেখ রাসেল ভবনের উল্টো দিকে এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে ডান পাশের যাত্রীছাউনিকে মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক এলাকা বলে মনে করছেন ছাত্রীরা। গতকাল এই জায়গাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নোংরা পরিবেশ, ফুটপাতে এখানে-সেখানে ভবঘুরেদের উপস্থিতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তাসনিম জেরিনের দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের পাশে ফুটপাতে বহিরাগতরা এসে গাঁজা খায়। মেয়েদের দেখলে কটূক্তি করে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের যাত্রীছাউনির সামনেও ভবঘুরেরা মেয়েদের বিরক্ত করে বলে অভিযোগ করেছেন রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রীরা। বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী নাহিদা আফরোজ বলেন, মঙ্গলবার সকাল আটটার ক্লাসে যাওয়ার জন্য রোকেয়া হলের রাস্তা পার হতে গেলে এক পাগল তাকে বেল্ট দিয়ে আঘাত করে। আর মৈত্রী হল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের মেয়েরা নানা সময় কটূক্তির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে কয়েক দিন ধরেই ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস গতকাল বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এক ছাত্রীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার পর আমরা হলের ছাত্রীরা নিরাপত্তার দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছি। এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর নিতে আমরা যখন বিভিন্ন কক্ষে যাই, মেয়েরা নানা ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। আমরা উপাচার্য স্যারকে বিষয়গুলো জানিয়েছি। তিনি প্রক্টর স্যারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।’

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এম আমজাদ আলী গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘তিন নেতার কবর ও হাইকোর্ট এলাকাসহ কিছু এলাকায় মাদকসেবীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দল নিয়মিত সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু সার্বক্ষণিকভাবে সেটা সম্ভব হয় না। আমরা এখন পুলিশকে অনুরোধ করব তারা যেন স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয় এবং এসব এলাকায় টহল দেয়।’