মেইন ম্যেনু

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকের ৫৭ ধারায় মামলা

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে গত রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর তিন দিনের মাথায় আজ বুধবার ওই বিভাগেরই সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন একই বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনসুর আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রগুলো বলছে, বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের বিলম্ব নিয়ে শিক্ষকদের দুই দলের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। এসব নিয়ে ফাহমিদুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হন।

এদিকে পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সবুজ সংকেতেই মামলাটি নেওয়া হয়েছে। আজ সকালে মামলার কাগজপত্র থানায় এলেও সবার অনুমোদনসাপেক্ষে সন্ধ্যার দিকে সেটি দায়ের করা হয়।

শাহবাগ থানায় দায়ের করা ওই মামলায় আবুল মনসুর অভিযোগ করেছেন, ৬৯ জন সদস্য আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এমন একটি ফেসবুক গ্রুপে ফাহমিদুল হক তাঁর (মনসুরের) বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে আবুল মনসুর অভিযোগ করেন, ফাহমিদুল হক লিখেছেন, আবুল মনসুরের কারণে মাস্টার্সের ফলাফল দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। যে কারণে বিভাগের আরেক অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বিপদে ও হয়রানির মধ্যে পড়েছেন এবং বিভাগের একাডেমিক পরিবেশ কলুষিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফিস ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সামান্য একটি ঘটনাকে জটিল করার বিষয়ে অসামান্য অবদান রাখা এবং শত্রুতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্যও ফাহমিদুল তাঁকে (আবুল মনসুরকে) অভিযুক্ত করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রুপে পোস্টটি দেওয়ার পরে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। সব মন্তব্যসহ ১২ পাতার স্ক্রিনশট নীলক্ষেত থেকে প্রিন্ট নিয়ে তিনি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেছেন, তদন্ত চলছে।

যোগাযোগ করা হলে মামলার আসামি সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি আইনগতভাবে লড়ব।’

সম্প্রতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হয়। এর প্রতিবাদে ও ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন। ওই মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আ জ ম শফিউল আলম ভুইয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, একই বিভাগের শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান, মারজিয়া রহমান প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই