মেইন ম্যেনু

‘ঢিল খাওয়ার ভয়ে লুকিয়ে আছে গুগল বাস’

বহুল আকাঙ্ক্ষিত গুগল বাস একবার দেখা দিয়েই আবার লাপাত্তা। কেউ জানে না বাসটি এখন কোথায়। গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করা হয় এ বাস। এর পর থেকে বাসটি রাস্তায় খুব একটা দেখেনি কেউ। বেশ কিছুদিন বাসটির কোনও কার্যক্রমও নেই। গুগল বাসের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। অক্টোবরে মেয়াদ শেষ হবে। বাংলাদেশে বাসের মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে।

খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেল গুগল বাসটির রাজধানীর দক্ষিণ খানে গুগল বাসের গ্যারেজে রয়েছে। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ বাসটি বের করা হয় না।

দেশের একজন প্রযুক্তি বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাসটি রাস্তায় বের হলে ঢিল খাওয়ার ভয় আছে। এ কারণে প্রকাশ্যে বের হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন করেন, বাসটিকে কে কবে রাস্তায় দেখেছে কেউ মনে করতে পারবে?’

এই কথার সূত্র ধরে এগোতেই জানা গেল,এক বছরে লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো। কিন্তু গত ৮ মাসে মাত্র ৮০ হাজার শিক্ষার্থী গুগল বাসের সংস্পর্শে আসতে পেরেছে বলে জানা গেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৪ ভাগের এক ভাগেরও কম।

যদিও বাসটির উদ্বোধনের দিন বলা হয়েছিল,এক বছর মেয়াদি প্রকল্পে গুগল বাস দেশের ৩৫ এলাকার ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ শিক্ষার্থীকে হাতে কলমে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিলেন গুগল বাস প্রকল্পের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট আরিফ নেজামী। তিনি বলেন, ওই সময় দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না। এজন্য বাসটি ‘ফ্রি মুভ’করতে পারেনি।

এখন কেন বাইরে বের হচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও নিরাপত্তাজনিত কারণে বের হচ্ছে না। বাসটি খুব কম মুভ করে। এখন বাসটি গ্যারেজে রয়েছে।

তিনি জানান, বাসটি তত্ত্বাবধান করছে তিনটি প্রতিষ্ঠান- হেড অফিস, মার্কেট একসেস এবং গ্রুপ ফোর। শেষোক্ত প্রতিষ্ঠানটি সদ্য বাসটির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। এর আগে অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করত।

আরিফ নেজামী আরও জানান, বাসটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রদর্শনী, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছিল। তবে বাসটি এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে কোথাও যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নভেম্বরে বাসটি চালু হলেও প্রকল্পের শুরু অক্টোবরে।

জানা ‌‌‌গেছে, বাংলাদেশে গুগল বাসটির প্রকল্প খরচ ৮ কোটি টাকার। স্থানীয়ভাবে নকশা করা বাসটিকে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনও আগ্রহ এখন আর দেখা যাচ্ছে না। বরং বাসটির খোঁজ করতে গিয়ে উত্তর মিলেছে, ‘আসলেই তো বাসটি কোথায়!’ ‘আমার জানা নেই’,‘খোঁজ নিতে হবে’।

বাসটি উদ্বোধনের পর প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় ছিল কবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে গুগল বাস। কিন্তু তাদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় বাস সংশ্লিষ্টরা এর নিরাপত্তা নিয়ে সংকটে পড়েছেন। বাসটি রাস্তায় নামলে ‘ঢিল খেতে পারে’ এমন আশঙ্কা থেকে সংশ্লিষ্টরা বাসটি বের করছেন না বলে অনেকে মনে করেন। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, বাসটি নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত,গুগল বাসে রয়েছে থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগসহ উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম। বাসের ভেতরেই অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিটি কর্মশালায় একজন প্রশিক্ষক শিক্ষার্থীদের গুগলের বিভিন্ন সেবা, যেমন গুগল সার্চ, ক্রোম, ডকস, ম্যাপস, ইউটিউব, গুগল প্লাস, জিমেইল, গুগল ট্রান্সলেট, গুগল বাজ, গুগল ভিডিও, জি টক, গুগল মার্স, গুগল মুন, গুগল আর্থ, গুগল ইনবক্সসহ শতেক বিষয়ে ধারণা দেন।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা যা শিখবে তা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এমন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস বা মোবাইল ফোনে চর্চা করারও সুযোগ পাবে। এছাড়া গুগল বাসে যুক্ত হওয়া এমন স্মার্টফোন এবং ট্যাব দিয়ে গুগল গ্লাস, গুগল ড্রাইভ, গুগল কমিউনিটিস এবং গুগল হ্যাংআউট বিষয়েও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।বাংলা ট্রিবিউন