মেইন ম্যেনু

ঢেঁড়সের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

ঢেঁড়সকে ওকরা, লেডিস ফিঙ্গার বা ভেন্ডিও বলা হয়। সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে এই উদ্ভিদের চাষ করা হয়। ম্যালাও পরিবারের অন্তর্গত এই উদ্ভিদে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে, এটি ফ্যাট মুক্ত এবং পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। উচ্চমাত্রার ফাইবার, ভিটামিন কে ও সি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকে ঢেঁড়সে। এছাড়াও ভিটামিন বি ১, বি ৩, বি ৬, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, বিটা ক্যারোটিন এবং লুটেইনও থাকে। ঢেঁড়সে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ও থাকে। এতোসব পুষ্টি উপাদানে ভরপুর হওয়ায় ঢেঁড়সের স্বাস্থ্য উপকারিতাও প্রচুর। ঢেঁড়স বা ভেন্ডির বিবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো জেনে নিই চলুন।

১। ওজন কমায়

ঢেঁড়সে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং এতে উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে বলে ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত খাদ্য এটি। তাছাড়া দীর্ঘক্ষণ পেটভরা রাখতেও সাহায্য করে ঢেঁড়স।

২। হার্ট ডিজিজ

ঢেঁড়স ভিটামিন ও মিনারেলের ভালো উৎস এবং এতে পটাসিয়াম ও থাকে বলে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। শরীরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পটাসিয়াম প্রয়োজনীয়। কারণ এটি সোডিয়ামকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও পটাসিয়াম রক্তনালীকে শিথিল হতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ কমায়। কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমের টান কমতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ঢেঁড়স রক্তজমাট বাঁধা এবং অ্যাথেরোস্ক্ল্যারোসিসের সমস্যা কমতেও সাহায্য করে।

৩। পরিপাক

ঢেঁড়সের মিউসিলাজিনাস ফাইবার পরিপাক নালী থেকে খাদ্য সরে যেতে সাহায্য করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে উপকার পাবেন।

৪। প্রেগনেন্সি

যে নারীরা কনসিভ করতে চান তাদের জন্য ঢেঁড়স অত্যাবশ্যকীয় একটি খাবার। কারণ ঢেঁড়সে ফলিক এসিড বা ফোলেট থাকে। ফোলেট শুধু কনসিভ করতেই সাহায্য করেনা ভ্রুনের উন্নয়নেও সাহায্য করে এবং গর্ভপাত প্রতিরোধেও সাহায্য করে। ভ্রুনের নিউরাল টিউব গঠনে সাহায্য করে ফোলেট।

৫। ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে

ঢেঁড়সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হচ্ছে এতে ভিটামিন সি থাকে যা ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৬। এনেমিয়া

ঢেঁড়সে আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন কে থাকে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। যারা এনেমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়স যোগ করুন।

৭। কোলন ক্যান্সার

অন্য উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মত ঢেঁড়স ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, পরিপাক তন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করার মাধ্যমে।

৮। লিভার ডিজিজ

ঢেঁড়স লিভারকে পরিষ্কার করে লিভারের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। লিভারে ফ্যাট জমতে বাঁধা দেয় ঢেঁড়স। ঢেঁড়সের উপাদান পিত্ত এসিড ও কোলেস্টেরলকে আবদ্ধ করে লিভারকে ডিটক্সিফাই হতে সাহায্য করে।

৯। দৃষ্টিশক্তি

ঢেঁড়স দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন এ এর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জিয়াজেন্থিন থাকে যা চোখের জন্য ভালো। ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানি প্রতিরোধের জন্য আপনার খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়স অন্তর্ভুক্ত করুন।

১০। স্বাস্থ্যকর ত্বক

ঢেঁড়সের বিবিধ পুষ্টি উপাদান ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সের ভিটামিন সি ক্ষতিগ্রস্থ পেশীর মেরামতে সাহায্য করে এবং কোলাজেনের গঠনে ও ত্বকের রঞ্জকের উপর প্রভাব ফেলে। কচি ঢেঁড়স সিদ্ধ করে পেস্ট করে নিন। এই পেস্ট জোজোবা তেল বা অন্যকোন তেলের সাথে মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে লাগান সপ্তাহে ১/২ দিন।

১১। খুশকি ও উকুন

খুশকি ও উকুন মুক্ত হতে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ভেন্ডি ব্যবহার করা হয়। ভেন্ডি লম্বালম্বিভাবে কেটে পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানিটি ছেঁকে নিয়ে এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে এই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

সতর্কতা :

ঢেঁড়সে উচ্চমাত্রার অক্সালেট থাকে। যাদের কিডনিতে পাথর বা পিত্তথলিতে পাথর আছে তাদের জন্য ঢেঁড়স খাওয়া বিপদজনক। কারণ অক্সালেট পাথরের সাথে যুক্ত হয়ে পাথরের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভাঁজা ঢেঁড়স খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই অন্যভাবে রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ঢেঁড়স রান্নার পূর্বে ভালো করে ধুয়ে নিন এবং অর্গানিক ঢেঁড়স কিনুন।