মেইন ম্যেনু

নিখোঁজের সেই মুহূর্তে তনুর মাকে ফোন:

‘তনুকে পাবেন পাওয়ার হাউসের পাশের জঙ্গলে’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে না পেয়ে যখন তার পরিবারের সদস্যরা এখানে সেখানে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাচ্ছিলেন না। ঠিক সেই মুহূর্তে তনুর মা আনোয়ারা বেগমকে কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘আপনার মেয়ে তনুকে পাবেন পাওয়ার হাউসের পাশের জঙ্গলে।’

সেই ফোন পেয়েই তনুর পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান পাওয়ার হাউসের কাছে। সেখানেই দেখেন তনুর ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে।

বুধবার তনু হত্যা রহস্যের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

গোয়েন্দারা ওই মোবাইল নম্বর ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এক ব্যক্তিকে। তবে সে যে হত্যায় জড়িত ছিলেন তেমন কোনো-তথ্য প্রমাণ পাননি গোয়েন্দারা।

তবে ওই ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে সিআইডি তনুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। থাকেন বসুন্ধরায়।

গোয়েন্দারা তার কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করছেন, তনুকে উত্ত্যক্ত করতো কে? সেই ব্যক্তির কোনো মোবাইল ফোন নম্বর তার জানা আছে কি না? ইত্যাদি

সিআইডি কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, কয়েকটি নম্বর থেকে হত্যার ১৮ ঘণ্টা আগে শুধু তনুকেই ফোন করা হয়েছে, অন্য কাউকে না।

গুরুত্বপূর্ণ এ সূত্র তনুর হত্যাকারীকে ধরতে তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে আশাবাদী করে তুলেছে।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় এরইমধ্যে তনুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাসহ ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরো ৭/৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি।

এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত করছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। আর তদন্তকাজে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী।

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী এবং সংস্কৃতিকর্মী সোহাগী জাহান তনুর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর তনুর খুনিদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে গণজাগরণ মঞ্চ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন নারী সংগঠন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।