মেইন ম্যেনু

তনু হত্যার ৩ মাস : কতটা এগুলো সিআইডির তদন্ত?

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যা মামলা তদন্তে সরব সিআইডিও এখন নীরব। এ মামলা নিয়ে কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতাও তেমন নেই। দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই ফরেনসিক বিভাগ তনুর মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে না পারায় পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।

আজ ২০ জুন ৩ মাস পূর্তি হচ্ছে দেশব্যাপী বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের। চলতি বছরের গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে একটি ঝোপের ভেতর থেকে কলেজ ছাত্রী তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে কুমিল্লা সিআইডি। সেনানিবাসের ন্যায় একটি সুরক্ষিত এলাকায় তনুর মৃত্যুর রহস্য ৩ মাসেও বের হয়নি।

শুরু থেকে দফায় দফায় মামলার তদন্ত সহায়ক দল ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসে সন্দেহভাজনসহ বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক ব্যক্তি, তনুর পরিবার ও বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তদন্ত সংস্থা সিআইডির হাতে এখন পর্যন্ত অর্জন শুধু তনুর ভ্যাজাইনাল সোয়াবে ৩ পুরুষের শুক্রাণু। তনুর হত্যাকাণ্ডের স্থানটি ঝোপের ভেতর নাকি কোনো বাসায়, এ রহস্যও বের করতে পারেনি সিআইডি। কচ্ছপ গতিতে চলা সিআইডির তদন্ত আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তনুর পরিবার।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি ঝোপের ভেতর থেকে কলেজ ছাত্রী তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ওই কলেজের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা। তিনি গত ৪ এপ্রিল ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য গঠন করা হয় ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। গত ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের জানানো হয়। তনুর সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্য সিআইডিতে চিঠি প্রেরণ করেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কেপি সাহা।

একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর আদালতের নির্দেশে গত ৭ জুন ফরেনসিক বিভাগের চাহিদা মোতাবেক তনুর ভেজাইনাল সোয়াব, দাঁত, চুল, অন্তর্বাস, কাপড়সহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত ১২ জুন ফরেনসিক বিভাগ ও ২য় ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান ডা.কেপি সাহা তনুর ডিএনএ প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করে ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও ওই প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তনুর এই প্রশ্নবিদ্ধ ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তনুর পরিবার প্রথম ময়নাতদন্তের ন্যায় ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখান করেন। ডিএনএ প্রতিবেদনে শুধু মাত্র ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার প্রতিবেদন দেয়া হয়। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণ’ কিংবা ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ এর তথ্য উল্লেখ না থাকলেও শুধু মাত্র ডিএনএ প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করে ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স মেডিকেল বোর্ড কিভাবে নির্ণয় করে এ নিয়ে তনুর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে দীর্ঘ ৩ মাসেও এ মামলায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কাউকে আটক কিংবা তনুর হত্যাকাণ্ডের স্থানটি কোথায় তাও বের করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো সিগন্যাল ছাড়া এখনই সন্দেহভাজনদের আটক কিংবা তাদের ডিএনএ সংগ্রহ করার সুযোগ নেই। এসব বিষয় ঢাকায় মামলার তদন্ত সহায়ক দল তদারকী করছে। যেকোনো সময়ই হয়তো সবুজ সংকেত পেলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ মামলার তদন্তে গতি ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লার সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যা-ই থাকুক না কেনো ঘাতকদের চিহিৃত করতে ডিএনএ সহায়তা নেয়া হবে। আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কখন সন্দেহভাজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হতে পারে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তবে তনুর মা আনোয়ারা বেগম মুঠো ফোনে জানান, তনু হত্যার পর ন্যায় বিচারের জন্য অনেকেই তো শান্তনা ও আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তো কোথাও ভরসা পাচ্ছি না, কার কাছে বিচার চাইবো ?

৩ মাসে একজন ব্যক্তিকেও তো এ মামলায় গ্রেফতার করা হলো না। বার বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলানো হলো, অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, কিন্তু এ মামলার ফলাফল কোন পর্যায়ে রয়েছে এ বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না।