মেইন ম্যেনু

তনু হত্যা মামলায় ৫ সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় পাঁচ সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদকে করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্তে সহায়তা করতে তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান সিআইডি ঢাকার সিনিয়র পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আখন্দের নেতৃত্বে সিআইডির উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম কুমিল্লায় পৌঁছে।

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ওই টিমটি কুমিল্লা সিআইডি অফিসে গিয়ে বৈঠক করেন। পরে বিকেল থেকে কুমিল্লা সেনানিবাসের ৫ কর্পোরাল, সার্জেন্ট ও সেনা সদস্যকে সিআইডি অফিসে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।

জানা যায়, তনু হত্যার পর এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণসহ আগামী সপ্তাহের মধ্যে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তিসহ মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।

রাতে সিআইডির কার্যালয়ে আসা সার্জেন্ট কামাল জানান, সেনানিবাসের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটলে বিধি মোতাবেক দায়িত্বরতদের জানাতে হয়। তনুর বাবা মরদেহ দেখে আমাদের বিষয়টি জানানোর কারণে মরদেহ সিএমএইচে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করি, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

এদিকে, তনু হত্যাকাণ্ডে সন্দেহবাজন হিসেবে আটক বুড়িচং উপজেলার নারায়নসার গ্রামের মিজানুর রহমানকে গত ২৭ মার্চ গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে কালো রঙের মাইক্রোবাস যোগে তুলে আনা হলেও এখনো তার হদিস পায়নি পরিবারের সদস্যরা।

তার বোন খালেদা আক্তার জানান, ‘২৮ মার্চ থেকে এ যাবৎ আমরা র্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, কারাগারে গিয়েও ভাইয়ের হদিস পাচ্ছি না।`

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের একটি জঙলে কলেজছাত্রী তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর দিন তার বাবা ইয়ার হোসেন কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ২৫ মার্চ রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর আদালতের নির্দেশে ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

কিন্তু গত ৪ এপ্রিল তনুর প্রথম ময়নাতন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ ও হত্যার স্পষ্ট আলামত নেই মর্মে রিপোর্ট দাখিল করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত, ডিএনএসহ অন্যান্য রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।