মেইন ম্যেনু

তনু হত্যা: ২০ জুনের মধ্যে অপরাধীরা শনাক্ত না হলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি

মাসুদ আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি॥ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকান্ডের ৮৬ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে না পারায় আবারও রাজপথে নেমেছে তনুর আত্মীয়স্বজন ও ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

৮৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও অপরাধীদেরকে শনাক্ত না হওয়ায় প্রশাসনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বুধবার কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

“খাওয়া নাইকো, নাওয়া নাইকো, নাইকো মুখে হাসি, এক দফা এক দাবি চাই নর ঘাতকের ফাঁসি” আমরা সবাই তনুর ভাই তনু হত্যার বিচার চাই, এমনই সব বজ্রকণ্ঠে শ্লোগানে বিচার দাবি করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

ঘন্টব্যাপী মানববন্ধন শেষে তনুর ভাই রুবেল হোসেন জানান, আমার বোন হত্যাকা-ের ৮৬ পরেও খুনিদেরকে শনাক্ত করতে না পারায় আমরা হতাশ। সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদন ব্যতীত প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমি সবার সাথে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করছি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী শিক্ষাথীরা বলেন, সেনাবাহিনীদের এলাকার নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে তনুকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এ হত্যাকা-ের সাথেই যারাই জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে প্রমান করে দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন নেক্কারজনক কর্মকা- কেউ করার সাহস না পায়।

তারা আরো বলেন, হত্যাকাণ্ড ঘটনার এতদিন অতিক্রম হলেও প্রশাসন লোক দেখানো তদন্তকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। তনু হত্যাকারীদের ফঁসিতে না ঝুলিয়ে রাজপথ থেকে কেউ আমাদের সরাতে পারবে না।

কুমিল্লা গনজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র খাইরুল আলম রায়হান মানববন্ধনে শেষে প্রতিবাদ সভায় বলেন, তনু হত্যাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেফতার করা না হলো আমারা কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। আগামী ২০ জুনের মধ্যে তনুর হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় না আনলে কুমিল্লা পূবালী চত্ত্বরে সভাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সমাবেশে পরবর্তীতে কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়া হবে। আমরা ঈদের পর কঠোর কর্মসূচী দিবো।

উল্লেখ্য যে গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুন নামক স্থানে কলেজছা তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ২১ মার্চ লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। এতে মৃত্যু কারণ ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়। পরে ৩০ মার্চ আদালতের আদেশে তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়। ওইদিনই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের গঠিত মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করে। সেই ময়নাতদন্তর প্রতিবেদন গত রবিবার প্রকাশ করে। তবে উক্ত রিপোর্টে তনু মৃত্যুর কারণ অজানা থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কুমিল্লা সর্বস্তরের মানুষ।