মেইন ম্যেনু

তমার ব্যানারে চলছে শুল্ক ফাঁকি দেয়া গাড়ি (ভিডিও)

হলুদ রঙের ঝকঝকা বিলাসবহুল ট্যাক্সিক্যাব। ট্যাক্সিক্যাবে স্বাভাবিক ভাবেই থাকবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের লোগো, জরুরি প্রয়োজনে পেতে থাকবে ফোন নম্বরও।

কিন্তু এ ট্যাক্সিক্যাবে নেই কোনো নম্বর। বাণিজ্যিক শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি হলেও চলছে ব্যক্তিগত। কাগজপত্র দেখানোর কথা বলার পরপরই লেগে গেল নম্বর!

রোববার (১৯ জুন) তমা গ্রুপের আমদানি করা বিলাসবহুল এমন একটি টয়োটা হ্যারিয়ার মডেলের ট্যাক্সিক্যাব জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

একই সময় শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করা একই ব্র্যান্ডের একই মডেলের শো’রুম থেকে আরো একটি জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আমদানিকারক তমা গ্রুপের হলুদ রঙের বিলাসবহুল একটি টয়োটা হ্যারিয়ার মডেলের ট্যাক্সিক্যাব ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদ পায় শুল্ক গোয়েন্দারা। পরে গোপনে নজরদারি করা হয়। ট্যাক্সিটি রাস্তায় চললেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়াও নেই কোনো ফোন নম্বর, ট্যাক্সি নম্বর বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম।

প্রাথমিক অনুসন্ধান করে শুল্ক গোয়েন্দা নিশ্চিত হয়, ট্যাক্সিটি তমা গ্রুপ আমদানি করেছে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করলেও চলছে ব্যক্তিগত।

আমদানির কাগজপত্র তলব করে তমা গ্রুপকে নোটিশ পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা। কাগজপত্রসহ ট্যাক্সিটি শুল্ক গোয়েন্দায় নিয়ে আসেন তমা গ্রুপের কর্মকর্তারা। কিন্তু সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে। ট্যাক্সি দেখে হতবাক শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যে ট্যাক্সিটিতে কোনো ফোন নম্বর, ট্যাক্সি নম্বর ছিল না মূর্হুতে তাতে লেগে গেল নম্বর! ট্যাক্সির পেছনে লেগে গেল ফোন নম্বর (০৯৬১২৬৬৭০৭০) ও ট্যাক্সি নম্বর (০২৫১)। ২০১৪ সালে তৈরি ট্যাক্সিটি ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ২০০০ সিসির।

প্রায় দেড় বছর আগে ২০১৫ সালে বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন (ঢাকা মেট্টো প ১৪-৫৯৩৫) নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম থেকেই এটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, টয়োটা হ্যারিয়ার মডেলের রেজিস্ট্রেশনবিহীন আরো একটি ট্যাক্সিক্যাব রাজধানীর বারিধারার অটো কার সিলেকশন শো’রুম থেকে জব্দ করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা হলেও রেজিস্ট্রেশন না করে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য শো’রুমে রাখা হয়েছিল।

ড. মইনুল খানের ভাষ্যমতে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আনা ট্যাক্সিক্যাবে (এসআরএ ১৩৯/২০০৯ অনুযায়ী) গাড়ি ২০ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফযোগ্য। এসআরও শর্ত অনুসারে, এসব ট্যাক্সির রং ও অন্যান্য ফিটিং সরবরাহ দেশ থেকে আনার কথা থাকলেও মানা হয়নি।

এসআরও অনুসারে, ট্যাক্সি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যায় না। গাড়ি দু’টির আমদানি শুল্ক ২১৭ শতাংশ। শুল্কসহ দু’টি ট্যাক্সিক্যাবের মূল্য এক কোটি টাকা।

এতে প্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা শুল্ক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। লগবই ও অন্যান্য কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ড. মইনুল খান।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন