মেইন ম্যেনু

তরুণদের প্রতিচ্ছবিতেই বদলে যাচ্ছে বিএনপি

নব্বইয়ের দশকে রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতাদের দিয়েই দলকে ঢেলে সাজাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছিল কাউন্সিলের আলাপ শুরুর পর থেকেই। এবার সেই গুঞ্জনই বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ষষ্ঠ কাউন্সিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে আসছে এক ঝাঁক নতুন মুখ। তরুণদের প্রতিচ্ছবিও দেখা যাবে এ কমিটিতে। এছাড়া এক সময়ের গৃহিণী খালেদা জিয়ার পাশে থেকে পরামর্শ দেয়া নেতাদের মধ্যে যারা ক্ষোভের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দলে নিষ্ক্রিয় তাদেরকেও আনা হচ্ছে কমিটিতে।

এদিকে, দলের সংকটে আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতা কাউন্সিলকে ঘিরে প্রকাশ্যে লবিং শুরু করেছেন। ফলে ফের সুবিধাবাদী, তোষামোদকারীরা নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কমিটিতে বহাল তবিয়তে থাকবে নাকি ত্যাগীদের মূল্যায়ন হবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া কাউন্সিলের মাধ্যমে দলে নতুন মুখের কথা শোনা গেলেও আবার কারো জন্য করুণ পরিণতিও অপেক্ষা করছে।

অপরদিকে, স্থান এখনও চূড়ান্ত না হলেও যে কোনো মূল্যে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিএনপি। নির্বাচন এবং আন্দোলন উভয় দিক বিবেচনা করে কমিটি পুনর্গঠনে মরিয়া দলটি। এছাড়া দলে বাড়তে পারে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও।

নতুন মুখের মধ্যে যেসব ছাত্রনেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সানাউল হক নীরু, কামরুজ্জামান রতন, নুরুল ইসলাম নয়ন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, ওবায়দুল হক নাসির, হাসান মামুন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হায়দার আলী লেলিন, আব্দুল মতিন, ওমর ফারুক শাহীন, আবু বকর, দুলাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম রাসেল, শেখ মোহাম্মদ শামীম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, কামাল আনোয়ার আহমেদ, আনোয়ার হোসেন টিপু, মনিরা আক্তার রিক্তা এবং সেলিনা সুলতানা নিশিতা।

যুবদল নেতাদের মধ্যে মূল দলে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম নীরব, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, মোরতাজুল করিম বাদরু, হামিদুর রহমান হামিদ, মামুন হাসান, রফিকুল আলম মজনু, এস এম জাহাঙ্গীর, ফরহাদ হোসেন আজাদ, নেওয়াজ আলী, এ ওয়াই এম খলিল, আলবাট পি কস্টা এবং কাজী রফিক।

স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে বিএনপিতে আসার আলোচনায় রয়েছেন মুহাম্মদ মুনির হোসেন, আলী রেজাউর রহমান রিপন, সাইফুল ইসলাম পটু, ইয়াসিন আলী, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, হাজী মনির।

কৃষকদলের মধ্য থেকে এমএ তাহের, জামাল উদ্দিন খান মিলন, ফজলুল হক মিলন, আলহাজ একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, আলহাজ নাজিম উদ্দিন, মো. শাজাহান মিয়া সম্রাট, ইলিয়াস আহমেদ পাল, মনিরুজ্জামান মনির, নাসির হায়দার এবং এসকে সাদী আলোচনায় রয়েছেন।

জাসাস থেকে শাইরুল কবির খান, বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা শাহারিয়া ইসলাম শায়লা, খল অভিনেত্রী রিনা খান, শামসুদ্দিন দিদার, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, অভিনেতা হেলাল খান, অভিনেতা বাবুল আহমেদ এবং জাহাঙ্গীর শিকদার।

শ্রমিক দলসহ অন্যান্য সহযোগী সমমনা সংগঠন থেকেও বিএনপিতে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ।

এছাড়াও ইউনুস মৃধা, কাউন্সিলর হারুন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম কণ্ঠ শিল্পী রুমানা ইসলাম কনক চাঁপা, ন্যান্সির নাম আলোচনা হচ্ছে বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দফতরে যুক্ত হতে পারেন বেলাল আহমেদ, গুলশানে চেয়ারপারসনের দফতরে সাবেক ছাত্র নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল। রাশেদা আক্তার হীরা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, রেহেনা আক্তার রানু, শ্যামা ওবায়েদ ব্যারিস্টার নওশার জামিরসহ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন।

এ বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে। নতুন মুখতো কমিটিতে থাকবেই। তবে ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিতরা স্থান পাবে নতুন কমিটিতে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, কাউন্সিল নিয়ে কাজ অনেক আগ থেকেই শুরু হয়েছে।নিষ্ক্রিয়তা ও বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকে হয়তো বাদ পড়বেন। সেসব স্থানে নতুন বা যোগ্য কাউকেই পদায়ন করা হবে। জাগো নিউজ