মেইন ম্যেনু

তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, মিরাকলের নাম বাংলাদেশ

একসময় যারা বাংলাদেশকে বটমলেস বাস্কেট বা তলাবিহীন ঝুড়ি, দূর্যোগপূর্ণ দেশ বলতো। দ্রুত উন্নতি দেখে তারাই এখন উল্টো মিরাকল দেশ বলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী মেলা ‘ফোর্থ শো-কেইস মালয়শিয়া ২০১৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স (বিএমসিসিআই) এই মেলার আয়োজন করে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পাওয়ার পর আমাদের উন্নতির যাত্রা শুরু হয়েছিল শূন্য থেকে। অতীতে ৭ কোটির বাংলাদেশে খাদ্যাভাব ছিল, আজ আমরা ১৬ কোটির বেশি মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বাধীনতার পর দেশে বৈদেশিক মূদ্রা ছিল না, আজ তা ২৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। কোনো রেমিট্যান্স ছিল না, এখন আমাদের রেমিটেন্স খুব শিগগিরই ১৬ বিলিয়ন ডলার হবে।’

প্রথমে এক্সপোর্ট ছিলো ৩০০ মিলিয়ন, আজ তা ৩১ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলে- বিশ্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের। তারা বাংলাদেশকে মিরাক্কল দেশ বলে। আমরা কিছু সমস্যা সত্তেও, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে।’ আমাদের জিডিপি সর্বশেষ ৬-৭ বছরে ৬ শতাংশের বেশি বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়াকে বন্ধুপ্রিয় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। আমরা একসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্য হিসেবে আছি। এই সম্পর্ক তৈরি হয় ১৯৭৩ সালে জাপানে গিয়ে মালয়শিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। আর সেই থেকে মায়শিয়ার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কও অনেক ভালো। তাদের দেশ থেকে আসা প্রায় ৯৯টি পণ্য ডিউটি ফ্রিতে আমাদের কাছে ছেড়ে দেয়। তারা আমাদের দেশে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি এক্সপোর্ট করে থাকে। কিন্তু তাদের তুলনায় আমরা তাদের কিছুই দিতে পারি না। তারা আমাদের দেশে বিপুল পরিমান ইনভেস্ট করেছে। যেমন ‘রবি’ই আমাদের দেশে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন পণ্যে ট্যাক্স ফ্রি সুবিধাও আমাদের দিয়ে থাকে। এছাড়া আমাদের সবচেয়ে বেশি শ্রমিক তাদের দেশে কাজ করছে। এটাও একটা বড় ইনভেস্টমেন্ট।’

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ান হাইকশিনার এইচ ই নরলিন বিনতে উসমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়শিয়ার অনেক বন্ধুত্ব সম্পর্ক। ‘শো-কেইস মালয়শিয়া’ এই মেলার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্যই মূলত এই মেলার আয়োজন। এখানে ২২টিরও বেশি মালয়েশিয়ান কোম্পানির ৫৮টি স্টল আছে। যেখানে নিজ নিজ কোম্পানির ‍পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। যার ফলে আমাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা পাবে বাংলাদেশ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কও বাড়বে।’

এসময় বিএমসিসিআই এর সভাপতি নাসির এ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ‘ফোর্থ শো-কেইস মালয়শিয়া ২০১৫’ অর্গানাইজিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এই মেলাটি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শানার্থীদের জন্য খোলা থাকবে এবং ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।