মেইন ম্যেনু

তহশিলদার বোরহান ৩ বছরেই কোটিপতি !

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকার তহসিলদার বোরহান উদ্দিন মাত্র ৩ বছরেই কোটিপতি হয়ে গেছেন। গড়েছেন নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি। একাধিক ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে লাখ লাখ টাকা। তার কাছে জিম্মি ছিল চৌমুহনী শহরের ভূমি মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তহসিলদার বোরহান আজ থেকে মাত্র ৩ বছর আগে যখন চৌমুহনীর তহসিলদার হিসেবে যোগদান করেন তখন তার তেমনি কিছুই ছিলনা পারিবারিক সামান্য সম্পত্তি ছাড়া। চৌমুহনী শহর হচ্ছে টাকার খনি। এখানে সম্পত্তির দাম বেশি। তাই যে কোন ফাইলে মোটা অংকের টাকা ঘুষ খাওয়া যাবে এমন চিন্তা থেকে সচুতর বোরহান উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চৌমুহনীর তহসিলদার হিসেবে যোগদান করেন। এখানে যোগদান করেই তিনি পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। ওই অফিসকে পরিণত করেন ঘুষ, দূর্নীতির আখড়ায়। চৌমুহনীর ভূমি মালিকরা হয়ে পড়েন অসহায়। তিনি অনেকটা জিম্মি করেই মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। টাকা আদায়ের বিভিন্ন খাতও তিনি বের করেন। সম্পত্তি জমা খারিজ, খাজনা সহ ভূমি সংক্রান্ত যে কোন কাজে সেবা প্রত্যাশীরা তহসিলদার বোরহানের কাছে আসলে তিনি নানা ভাবে তালবাহানা করেন। একটি জমা খারিজে সরকারি হিসেবে খচর হয় মাত্র ১২০০ টাকা। অথচ তহসিলদার বোরহান নানা অজুহাত দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে থাকেন। চৌমুহনী পৌর এলাকায় ভূমি কর হচ্ছে ১ শতাংশে ৫০ টাকা।

তহসিলদার বোরহান মানুষের কাছ থেকে রিসিটের বাইরে হাজার হাজার টাকা আদায় করেন। কেউ তার সম্পত্তি জমা খারিজের জন্য দিলে তহসিলদার বোরহান প্রতিপক্ষের সাথে আতাত করে মোটা অংকের টাকা খেয়ে জমা খারিজ প্রত্যাশী বছরের পর ঘুরাতে থাকেন। অথছ সরকারি নিয়মে ৪৫ দিনের ভেতর জাম খারিজ আপত্তি নিষ্পত্তি করার কথা বলা আছে। শুধু তাই নয়-জমা খারিজ প্রত্যাশি টাকা দিতে না পারলে বা টাকা না দিলে জমা খারিজই হয়নি ওই অফিসে। এ ক্ষেত্রে যে টাকা বেশি দিবে তার পক্ষেই রিপোর্ট দেন তহসিলদার বোরহান।

এ প্রতিবেদক পরিচয় গোপন রেখে ওই অফিসে গিয়ে ভূক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে একাধিক অভিযোগ সংগ্রহ করেছে। তাছাড়া চৌমুহনী হচ্ছে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধাণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে সরকারের অনেক মূল্যবান খাস ও ভিপি সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলো রক্ষার দায়ীত্ব ছিল তহসিলদার বোরহানের। তিনি চৌমুহনীতে যোগদানের পর থেকে সরকারের অতিমূল্যবান এই সম্পত্তিগুলো বেহাত হতে থাকে। একের পর এক চৌমুহনী শহরের আনাচে কানাচে সরকারি পুকুর, ডোবা, নালা, খাল, বিল দখল হয়েছে এখনো হচ্ছে। ভূগ্রাসী চক্রদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে তিনি হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ আর সরকার হারিয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। চৌমুহনী শহরের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেহাত হলেও নীবর ছিল তহসিলদার বোরহান ও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তহসিলদার বোরহান টাকার নেশায় এমন অন্ধ ছিলেন যে ওই অফিসের সেবা প্রত্যাশী কোন লোকই তার কাছে ভালো ব্যবহার পেতেননা। টাকা পেলে তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশও অমান্য করতে দ্বিধা করতেননা। যার জন্য কয়েকবার তহসিলদার বোরহানকে উর্ধতন কর্তপক্ষের গালমন্দও শুনতে হয়েছে। তবুও চোরের না শুনে ধর্মের কাহিনী। তিনি তার অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার করেই গেছেন। তার বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলে-চৌমুহনীর করিমপুর রোর্ডের ন্যাশনাল মাইকের ইকবালের মৃত্যুর জন্য তার পরিবারের সদস্যরা বোরহানকেই দায়ী করেছেন। ইকবার স্টোক করার কয়েক দিন আগে তহসিলদার বোরহান ইকবারের দোকানের ভিপি জায়গাটি সরকার বুঝে নেওয়ার জন্য ডিসি অফিসে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। যা শুনে খুবই বিষন্ন আর চিন্তিত হয়ে পড়েন ইকবাল। এর কয়েক দিন পরেই ইকবাল স্টোক করে মৃত্যু বরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

তাছাড়া চৌমুহনীর অধিকাংশ পুকুর, ডোবার অস্তিত্ব থাকলেও তহশিলদার বোরহান ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে তা প্রাকৃতির কারণে ভরাট হয়েছে এমন রিপোর্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একসনা বন্দোবস্ত নামে ও ভিপি অবমুক্তির সময় তহসিলদার বোরহান লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। অথচ সরকার জনগনের কল্যাণে এই সিদ্ধান্ত নিলেও ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার কারণে জনগণ সেই সুফল পায়নি।

তার এসব অনিয়ম নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এর পর আর বেশি দিন থাকতে পারেননি তিনি-দূর্নীতি আর অনিয়মের অপবাদ নিয়েই গত ১২ জুলাই চৌমুহনী থেকে পাশ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর বদলি হয়েছেন তিনি। তার বদলিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে তহসিলদার বোরহানের সাথে আলাপ করতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল ধরেননি।