মেইন ম্যেনু

তাজমহলকে কাদায় ঢেকে রাখা হবে?

দীর্ঘদিনের ব্যাপক বায়ুদূষণের কারণে হলুদ দাগে ছেয়ে গেছে তাজমহলের সাদা মর্মর পাথরের দেয়াল। তা অপসারণে নয়নাভিরাম এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তিকে নয় বছর কাদার প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া গতকাল বুধবার এ খবর দিয়েছে। খবর এএফপির।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলেছেন, শাশ্বত প্রেমের প্রতীক হিসেবে জগদ্বিখ্যাত তাজমহলের চারটি মিনার ও প্রধান গম্বুজে যেসব বস্তুকণা জন্মেছে, তা যথাযথ ও নিরাপদে অপসারণ করতে হলে দীর্ঘ সময় নেওয়ার বিকল্প নেই। ১৭ শতকে নির্মিত এই অনন্য স্থাপনাকে দূষণের হাত থেকে রক্ষায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষ করে পাশের ব্যস্ত শহর আগ্রার শিল্প-কারখানা থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণের হাত থেকে তাজমহলকে বাঁচাতে মরিয়া কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে সরকার আগ্রার কয়লাচালিত কারখানাগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া জ্বালানির জন্য শুকনো গোবর ব্যবহারের স্থানীয় প্রথাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কাদার প্রলেপ দিয়ে তাজমহলকে ঢেকে রেখে হলুদ দাগ মুছে ফেলার পরিকল্পনাটি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছর। স্থাপনাটির দেয়ালগুলো থেকে কার্বনের আস্তরণ কমিয়ে আনতে ওই পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করে কর্তৃপক্ষের এ-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ওই কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, কাদার প্রলেপ থেরাপির মাধ্যমে তাজমহলের দাগ ওঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই) বিভাগ নয় বছর সময় নেবে। বর্তমান হারে বায়ুদূষণ অব্যাহত থাকলে প্রতি ছয়-সাত বছর অন্তর এই থেরাপি প্রয়োগ করতে হবে।

ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা তাজমহল। মুঘল সম্রাট শাহজাহান প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতি ধরে রাখতে এ সমাধি সৌধটি নির্মাণ করেন। ১৪তম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ১৬৩১ সালে মারা যান মমতাজ মহল।