মেইন ম্যেনু

তাণ্ডব শেষে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে ‘রোয়ানু’

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে আরো উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে শক্তি হারিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। এ ঝড়ের তাণ্ডবে বাংলাদেশের সাত জেলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নিহত হয়েছেন শতাধিক, বাস্তুহারা হয়েছেন দুই লাখের বেশি মানুষ।

বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেয়া রোয়ানু শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই সারাদেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতদরের রোয়ানু সিরিজের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ডপলার রাডার ইকো ও আবহাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, উপকূল অতিক্রমরত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আরো উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে এবং বৃষ্টি ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

সন্ধ্যা ৭টায় এই বিশেষ বুলেটিন দেয় আবহাওয়া অধিদফতর।

স্থল নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের ফেনী, সীতাকুণ্ড ও খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল তা নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। তবে সামান্য বৃষ্টিপাত ও শীতল হাওয়া ছাড়া রাজধানী ঢাকায় রোয়ানুর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি।

রোয়ানুর প্রভাবে উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়; আবহাওয়া অধিদফতর তাদের প্রতিটি বিশেষ বুলেটিনেই এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছিল।