মেইন ম্যেনু

তামিম-আয়েশার দীর্ঘ ৮ বছর লুকিয়ে প্রেম করার ‘প্রেম কাহিনী’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। তার পিতার নাম মো: ইয়াসিন ও মাতার নাম মমতাজ বেগম। আয়েশা সিদ্দিকা তার পিতামাতার সর্বকনিষ্ঠ কন্যা। আয়েশা সিদ্দিকা ব্যক্তিগতভাবে তেমন পরিচিত না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অনেকটাই জনপ্রিয়। যেমনটা জনপ্রিয় হয়েছিল গত ডিসেম্বরে শাকিব পত্নী উম্মে আহমেদ শিশির। “আয়েশা সিদ্দিকা” বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মারমুখী ওপেনার তামিম ইকবাল খানের হবু স্ত্রী (জুন, ১২, ২০১৩)। তামিম ও আয়েশা-র দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমের শুভ পরিণয় হচ্ছে বিয়ের মাধ্যমে। আয়েশা সিদ্দিকা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্কুল জীবনে আশেয়া সিদ্দিকার সাথে পরিচয় হয় তামিম ইকবালের। দুজনই চট্টগ্রামের সানসাইন গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা করতেন। দুজনের ক্লাসের পার্থক্য থাকলেও আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরবর্তীতে প্রেম এবং বিয়ে। ২২ জুন, ২০১৩ ইং তারিখে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

যেভাবে শুরু
আয়েশা সিদ্দিকা তখন চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী, এক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখেছিলেন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র তামিম ইকবাল। দেখেই কুপোকাত, যাকে বলে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। এক বান্ধবীকে দিয়ে আয়েশার কাছে মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলে পাঠালেন তামিম। শুনেই যাকে বলে পত্রপাঠ বিদায়। আয়েশা বলেছিলেন, ‘লাভ? আই হেইট দ্য ওয়ার্ড—লাভ!’ এ রকম প্রত্যাখ্যানের পর ভালোবাসা যে আরও বাড়ে, এটা গুণীজনেরা বলেন। তামিমেরও তা-ই হলো, লেগে রইলেন। ফোন করে, স্কুলের আঙিনায় নানাভাবে বুঝিয়ে তুলে ধরতে চেষ্টা করলেন হূদয়ের আকুতি। ফলাফল শূন্য।

তাদের ভাষ্যমতে, ‘সব চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর একদিন বললাম, আমরা অন্তত বন্ধু তো হতে পারি? এই প্রস্তাবে কাজ হলো। এ রকম নির্দোষ একটি প্রস্তাবে রাজি হয়েই বেচারি ফেঁসে গেল। বন্ধুত্বের পর্বে আমাকে জানার সুযোগ হলো তার, দেখল যত খারাপ ভেবেছিল তত খারাপ মানুষ নই আমি…এবার টোপটা গিলে ফেলল…হা হা হা।’

চট্টগ্রামের রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে, প্রেম-পর্ব চালিয়ে যেতে অসুবিধা হয়নি কোনো?
‘হয়নি আবার! স্কুলে যাওয়ার সময় সঙ্গে কেউ থাকে, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার সময়ও আছে কেউ না কেউ, বাসার সামনে দারোয়ান জামালের প্রহরা এমনই নিশ্ছিদ্র, তামিম তো দূরের কথা, একটা মাছি যাওয়ারও উপায় নেই। ফোনে কথা বলাটাই একমাত্র ভরসা, তা-ও তো একবার ধরা পড়ে গেলাম।’

সেটা কেমন?
‘একবার একটা এসএমএস পাঠিয়েছিলাম। সেটা দেখে ফেলেছিলেন বাড়ির লোকজন। ব্যস, বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল তার সেলফোন। আর কোনো যোগাযোগ নেই। কী হয়েছে আমি তো আর জানি না, কেন সব যোগাযোগ বন্ধ। কী যে অস্থিরতার মধ্যে কেটেছে কয়েকটা দিন। শেষে একদিন ফোন এল। আমি তখন আমার এক বন্ধুর গাড়িতে, চলন্ত গাড়ি থেকেই লাফ দিয়ে নেমেছি রাস্তায়। তার সব দুর্ভোগের কথা শুনলাম। জানা গেল, আপাতত ফাঁড়া কেটেছে। সে দিনটি ছিল কী সুখের দিন!’

তার মানে, অনেক বিড়ম্বনা সইতে হয়েছে?
‘একেবারে ফিল্মের মতো। ওকে টুকটাক উপহার দিতে চাইতাম, সোজা রাস্তায় তারও উপায় নেই। বাঁকা পথ ধরতে হলো, ফোনে আগেই কথা থাকত, দেয়ালের ওপার থেকে ওদের ব্যালকনিতে ছুড়ে দিতাম…।’

কী ধরনের উপহার দিতেন?
‘বেশির ভাগ সময়েই পারফিউম। এখানেও একটা মজার কাহিনি আছে। তখন তো টাকাপয়সা ছিল না তেমন, ছোট বোন উরুসার আলমারি থেকে ওর পারফিউম চুরি করতাম। আমার খালা বিদেশ থেকে পারফিউম পাঠাতেন ওর জন্য, আমি সেখান থেকে…।’

ধরা পড়েননি কখনো?
‘না। সন্দেহটা ছিল আমার ওপরই, কিন্তু প্রমাণ তো নেই। হা হা হা। তবে এখন সেটা শোধ দিচ্ছি সুদে-আসলে। এখনো দেশের বাইরে গেলে পারফিউম নিয়ে আসি ছোট বোনের জন্য।’

লুকিয়ে-চুরিয়ে যা হোক চলছিল প্রেম। কিন্তু এরই মধ্যে পড়াশোনা করতে মালয়েশিয়ায় চলে গেলেন আয়েশা। বেশ মুষড়ে পড়েছিলেন তামিম। কিন্তু সেই সময়টাতেই জাতীয় দলে জায়গা হয়ে গেল। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুবাদে মাঝেমধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সামর্থ্য হলো। তামিম বলেন, তাঁর প্রিয় উড়ালযান ‘মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস’। মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়ায় গিয়ে হাজির হতেন। হোস্টেলের নানা নিয়মকানুনের ফাঁক গলে দুপুরে বা সন্ধ্যায় দেখা করতে আসতেন আয়েশা। একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া, একটু বেড়ানো, কয়েকটা দিন কেটে যেত যেন কয়েক মুহূর্তে। ‘ফিরে আসার সময় কষ্টে বুক ফেটে যেত, অদ্ভুত অনুভূতি, যেন আর কখনোই তাকে দেখতে পাব না আমি।’

প্রেমিকের সেই আশঙ্কা অবশ্য সত্য হয়নি। আবার দেখা হয়েছে দুজনের। এভাবেই কখন কেটে গেছে দীর্ঘ আটটি বছর। কুয়ালালামপুর সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক আয়েশা সিদ্দিকা দেশে ফিরে আসেন।

আয়েশার পরিবারে এই প্রেম নিয়ে নানা সমস্যা হলেও তামিমের পরিবারে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই ও রকম ছিল না। মা নুসরাত ইকবালকে কখনো কিছু লুকাননি তামিম, এই সম্পর্কের কথাও তাই অকপটে জানিয়েছিলেন। তিনি শুধু বলেছিলেন, ভালো পরিবারের মেয়ে হলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তামিম বলেন, ‘বাবা তো মারা গেছেন অনেক আগে, তাই মা-ই আমাদের সবকিছু, মা আমাদের অভিভাবক যেমন, আবার তেমনি ভালো বন্ধুও।’