মেইন ম্যেনু

তারুণ্যে হোস্টেল জীবনের পজেটিভ দিকগুলো

জীবনের একটা সময়ে, বিশেষ করে তারুণ্যে আমাদের অনেককেই ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হয়। অন্য জায়গা বলতে হোস্টেলের কথা বলছি। এটা এমন একটা জায়গা যেখানে বিভিন্ন স্থান ও বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ একত্রে থাকে। এই জীবনে মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে এবং কিছু অমূল্য কিছু স্মৃতি লাভ করে। যদি বাড়িতে থাকা ও হোস্টেলে থাকা নিয়ে তুলনা করা হয় তাহলে স্বভাবতই অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। হোস্টেলে জীবনের মাঝে কিছু খারাপ দিক আছে তবে বেশির ভাগই উপকারী। আজ আমরা সেই উপকারী দিকগুলো জেনে নেব।

১। অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞতার কোন শেষ নেই, প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখছি আমরা। নতুন কিছু শেখার জন্য জীবনকে নতুন ভাবে অন্বেষণ করতে হয়। যখন কেউ বাড়ির গণ্ডী পেরিয়ে হোস্টেলে যায় তখন সে নতুন অনেক কিছু শিখতে পারে। নতুন বন্ধু পায়, নিজের কাজ গুলো নিজের মত করতে পারে, নিজের দায়িত্ব নিতে শিখে, স্বাধীন ভাবে থাকে, এই সব কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়। সেখানে বিভিন্ন সমস্যা, পরাজয়, হতাশা ও হৃদয়ভাঙ্গার মত বিষয় গুলোর মুখোমুখি হলে নিজেই সমাধান করতে হয়। তাই হোস্টেল জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জন অনিবার্য। তাই হোস্টেলে থাকা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

২। স্বাতন্ত্র্যতা

আমরা বাসায় স্বাধীনতা পাই খুব কম। ছোট বা বড় অনেক কিছুর জন্যই আমরা আমাদের বাসার মানুষের উপর নির্ভরশীল থাকি। আমরা উপার্জন করি, নিজেদের কাজ গুলো নিজেদের মত করি বা খুব কম সময় বাসায় কাটাই কিন্তু যেকোন ভাবেই হোক অনেক কিছুর জন্যই আমরা পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভরশীল থাকি। কিন্তু হোস্টেলে গেলে খাবার, কাপড় ধোয়া, বাহিরে যাওয়া, সময় ম্যানেজ করা, টাকা ম্যানেজ করা এই সমস্ত কাজ গুলো নিজেকেই করতে হয়। এর ফলে স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতা তৈরি হয়।

৩। খাবার নিয়ে অভিযোগ করা বন্ধ হয়

আমরা নিয়মিত খাবার খেতে পারছি এই জন্য আমাদের সৃষ্টি কর্তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ পৃথিবীর ৫০% মানুষই ঠিক মত খাবার পায় না। বাসায় আমরা আমাদের পছন্দনীয় খাবার না হলে আমরা পরিবারের সদস্যদের সাথে বিশেষ করে মায়ের সাথে রাগ করি। কিন্তু হোস্টেল জীবনে এরকম করার কোন সুযোগ নেই। হোস্টেলের খাবার খাওয়াটা কষ্টকর হলেও ক্ষুধার সময় ঠিকই খাওয়া হয় এবং মজাও লাগে।

এছাড়াও হোস্টেলে অনেক মানুষের মাঝে থাকার ফলে ও অনেক নতুন বন্ধু পাওয়ার ফলে নিজের অনেক কিছু শেয়ার করতে হয় যার ফলে মনের সংকীর্ণতা দূর হয়, মন প্রসস্থ ও উদার হয়, মানুষের সাথে মেশার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, নিয়মানুবর্তিতা চর্চার ফলে জীবনকে উপভোগ করতে শেখে মানুষ।