মেইন ম্যেনু

‘তারেকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে ইন্টারপোলে সরবরাহ করা তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে গিয়ে এখন নিজেরাই মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়েছে, সেইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য আইনি লড়াই করা হবে বলেও জানান ফখরুল।

আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ইন্টারপোলের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমান সম্পর্কে ইন্টারপোলে সরবরাহ করা তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ডাটাবেজ থেকে সব তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ কমিশন ফর দ্য কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলসের পক্ষ থেকে লন্ডনের স্বনামখ্যাত লিগ্যাল ফার্ম লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ফার্মকে লিখিতভাবে ইন্টারপোলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ফ্রান্সে ইন্টারপোলের হেড কোয়ার্টার্সে কমিশন ফর দ্য কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলসের এক বৈঠকে বলা হয়, তারেক রহমান সম্পর্কে প্রাপ্ত সব তথ্য-প্রমাণ এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থা ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনোভাবেই তার নাম ইন্টারপোলে তালিকাভুক্ত হতে পারে না। এরপরই ইন্টারপোল জেনারেল সেক্রেটারিয়েট তাদের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো এনসিবি তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সব তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলেও চিঠিতে জানায়। শুধু তাই নয়, ইন্টারপোল বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তাদের সব সার্ভার ও ডাটাবেজ থেকেও এই তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সমর্থক এবং এমপি পদপ্রার্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে দিয়ে পুনঃতদন্ত করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারেক রহমানকে মামলার আসামি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে তার সম্পর্কে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোল মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে রেড নোটিশ জারি করে। ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করার পর এর যৌক্তিকতা নিয়ে তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ইন্টারপোল হেড কোয়ার্টার্সে আপিল করে।’

ফখরুল দাবি করেন, সেই আপিল গ্রহণ করে ইন্টারপোল তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই করার পর কোনো সত্যতা না পাওয়ায় এবং বিষয়টি তাদের আর্টিকেল ৩ এর ধারায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হওয়ায় রেড নোটিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোল হেড কোয়ার্টার্স তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সব তথ্য বাতিল করে দিয়েছে। লন্ডনিয়াম সলিসিটর্সের প্রিন্সিপ্যাল ডেভিড রিকটারের মতে, ইন্টারপোলের সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে দেয়া অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা। আবারো প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান পলাতক নন এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তারেক রহমানের নাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় জড়ানো হয়েছে। ইন্টারপোল বুঝতে পেরেছে তারেক রহমানের সম্মান বিনষ্ট করতে ইন্টারপোলকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘এর আগেও এই সরকার দুদকের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানি লন্ডারিং এর মামলা দায়ের করেছিল। চার বছর ধরে সেই মামলা চলার পর ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন মামলার রায়ে তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ সেই মামলাতেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, তারেক রহমান ২০০৭ সালের ৭ জুন দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করা অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

ফখরুল দাবি করেন, ‘তারেক রহমান টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করার বিষয়টি গোপন বা আড়াল করেননি। ফলে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধ তিনি করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণপত্র সম্পর্কে আদালত সংশয় প্রকাশ করেছিল এবং বলেছিল, তারেক রহমানের বিরদ্ধে আনা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌসুলী সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হননি। কিন্তু সরকার পক্ষ সেই রায়কে মেনে না নিয়ে, বরং ওই বিচারকের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।’

তারেক রহমানকে নিরপরাধ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সরকার একের পর এক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার এবং হয়রানি করার চেষ্টা চালালেও বারবার আদালতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।’