মেইন ম্যেনু

তালার ইসলামকাটী উত্তর বিলের নায্য হারি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

এসকে রায়হান, তালা , সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালার ইসলামকাটিতে ১২ শ বিঘার মৎস্য ঘের নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। জমির মালিকদের ন্যয্য হারি থেকে বঞ্চিত করে প্রভাব খাটিয়ে জোর পূর্বক ঘের কারার পায়তারা করায় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগে দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জানাযায়, তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের উত্তর বিলের ১২শ বিঘার মৎস্য ঘেরটি প্রভাবশালী কতিপয় কুচক্রী মহলের দালালির কারণে প্রকৃত জমির মালিকরা ন্যায্য হারি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানাযায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের মির্জাপুর, বারাত, কাজীডাঙ্গা, ভবানীপুর, খরাইল গ্রাম সংলগ্ন উত্তর বিলটি বিগত ৫ বছর পূর্বে কেশবপুর উপজেলার বাউশুলা এলাকার শুকুর আলী ও হযরত আলী, নাম মাত্র মুল্যে জমির মালিকদের নিকট থেকে একটি ডিট করে নেয়। কিন্তু ৩ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর জমির মালিকদের মতামত না নিয়েই শুকুর আলী ও হযরত আলী অবশিষ্ট ২ বছর কেশবপুরের কলাগাছী এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম কে হস্তান্তর করে। চলতি বছরের চৈত্র মাসে উক্ত চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মঞ্জুরুল চেয়ারম্যানের পক্ষে কতিপয় দালাল চক্র বৃহতাংশ জমাদারদের ঠকিয়ে রাতের আধারে একটি ডিট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে কথা হয়, মির্জাপুর গ্রামের সমির ঘোষ (৫৫), গুরুপদ ঘোষ (৫৮), কল্যাণ আশিষ বাপ্পী (৪০) রাজেন্দ্র নাথ (৬০) বাবু পাল, বারাত গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪৮), কাজীডাঙ্গা আমিনুর রহমান (৪০), ভবানীপুর গ্রামের নীল কোমল(৬৫) খরাইল গ্রামের)গোবিন্দ (৪২) চিত্তরঞ্জন (৭০) সহ অনেক জমাদারের সাথে কথাবলে জানাযায়, আমাদের প্রত্যেকের ২০/৪০ বিঘা করে জমি রয়েছে উক্ত ঘেরে কিন্তু আমাদের না জানিয়ে মঞ্জুরুল চেয়ারম্যানের লোকজন কম হারিতে উৎকোষের বিনিময়ে রাতের আধারে চুরি করে স্টম্পে ২০/২৫ শতাংশ নামমাত্র জমিরমালিকদের স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার সোবাহান আলী জানান, আমি সহ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকদের নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উন্মক্ত ডাকের মাধ্যমে উক্ত ঘেরটি লীজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কতিপয় স্বার্থন্বেষী ব্যক্তির কারণে সে সিদ্ধান্ত ভেস্তে যেতে চলেছে। তারপরও আমরা হাল ছাড়ব না প্রয়োজন হলে প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যেতে রাজি।

এদিকে কেশবপুর এলাকার মোঃ আলমগীর কবির ওরফে এসি আলম নামে খ্যাত বিশিষ্ট ঘের ব্যবসায়ী উক্ত ঘেরটি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, জমির মালিকদের হক মেরে আমি ঘের নিতে চাইনা, আমিও ওপেন ডাকের মাধ্যমে ঘেরটি যে সর্বউচ্চ হারি দিতে রাজি হবে তাকে দেওয়ার জন্য এলাকাবাসী সহ জমির মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানায়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ঘের ব্যবসায়ী মধু-মোস্তাকিন বিলান জমি ১৩ হাজার টাকা বিঘা ও ক্যানেল-ভেড়ী ৩৫ হাজার টাকা বিঘা দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু মঞ্জুরুল চেয়ারম্যান বিলান জমি ১০ হাজার টাকা বিঘা ও ক্যানেল-ভেড়ী ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করে কিছু জমির মালিকদের ম্যানেজ করে স্বাক্ষর নিয়ে জবর দখলের করবে বলে আমরা শুনেছি। অপর দিকে অধিকাংশ জমির মালিকরা সর্বোচ্চ হারিদাতাকে লীজ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অসহায় জমির মালিদের বিষয়টি বিশেষ ভাবে বিবেচনা পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছেন।