মেইন ম্যেনু

তালেবানের নতুন নেতা হচ্ছেন হাক্কানি

তালেবানের শীর্ষ নেতা হিসেবে সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন ড্রোন হামলায় মোল্লা আখতার মনসুরের মৃত্যুর পর নতুন নেতা হিসেবে সিরাজউদ্দিনকে বিবেচনা করছে সংগঠনের নেতারা। সংগঠনের সর্বোচ্চ ডিসেশনমেকিং বডি ‘রাহবারি শুরা’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। নতুন শীর্ষ নেতা নির্বাচন নিয়ে কখন, কোথায় বৈঠক হয়েছে তা জানা যায়নি। সংগঠনের বিভিন্ন সুত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে গত শনিবার মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন তালেবান শীর্ষ নেতা মোল্লা আখতার মনসুর। প্রথমে অস্বীকার করলেও একদিন পর রোববার মনসুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তালেবান জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা আবদুর রউফ। সংবাদ সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, পাক-আফগান সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন মোল্লা মনসুর।

তালবানের এ শীর্ষ নেতার মৃত্যুর নিয়ে মার্কিনীদের প্রচারণা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের আরেক নেতা। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, এ সংবাদ মার্কিনীদের নিছক প্রচারণা। সংগঠনের তথ্য অনুয়ায়ী, মোল্লা মনসুর বহাল তবিয়তে আছেন।

গত বছরের জুলাইয়ে তালেবানের আধ্যাত্মিক নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর মোল্লা আখতার মনসুর সংগঠনটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন অভিযান চালায় মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি দল। গোপন সামরিক অভিযান নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ওই ঘটনার পর শনিবার তালেবান নেতা মনসুর হত্যায় মার্কিন ড্রোন হামলা ছিল গোপনীয় এবং সফল।

সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে নিহত মোল্লা আখতার মনসুরের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর হিসেবে বিবেচনা করছে আফগানিস্তান ও দেশটির মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনির কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য তালেবান নেতাকে জীবিত কিংবা মৃত ধরিয়ে দিতে ইতোমধ্যে ৫ মিলিয়ন মার্কির ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আফগান ও মার্কিন বাহিনির বিরুদ্ধে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে রক্তক্ষয়ী সব হামলার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তালেবান এ গেরিলা কমান্ডার। কাবুলে ওই হামলায় কমপক্ষে ৬৪ আফগান সেনার মৃত্যু হয়।

সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আরও তিন জনের নাম আলোচিত হচ্ছে বলেও খবর দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। এসব খবরে বলা হচ্ছে, তালেবান প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুবকেও নতুন নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তালেবান সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সমন্বয় করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখায় মোল্লা ওমরের ভুমিকার জন্য ছেলে ইয়াকুবকে নতুন নেতা হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারের সাবেক বন্দি মোল্লা আবদুল কাইয়ুম জাকির এবং মোল্লা শারিনের নামও আলোচনায় আছে বলে বলা হচ্ছে।