মেইন ম্যেনু

তাড়াহুড়ো আর অহেতুক শটের চড়া মাশুল

যাকে নিয়ে সিরিজ শুরুর আগে থেকে ভয়ের স্রোত বয়ে যাচ্ছিল, সেই ডি ভিলিয়ার্স আউট ইনিংসের প্রথম ওভারেই। মাত্র ২ রান করতেই আরাফাত সানীর বলে সাজঘরে ফেরেন হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যান।

আরেক হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারের ইনিংসও থামল ১ রান করতেই। শেষমেষ ফাফ ডু প্লেসিসের ৭৯ রানের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৪৮ রান।

বাংলাদেশের জন্য টার্গেট ১৪৯ রান। রানরেট ওভার প্রতি ৭.৪৫। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিশ্চয় আহামরি কিছু নয়? গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও তো ১৪২ রানের টার্গেটে ৭ উইকেট আর ২২ বল হাতেই রেখে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এই মিরপুরেই। যদিও পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। তবে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও খুব একটা ভয়ের কারণ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু কী করলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা?

তাড়াহুড়ো আর অহেতুক সব শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানরা। ভুলের চড়া মাশুল হিসেবে ম্যাচ হারের পাশাপাশি ইতিহাস বদলানোর সুযোগটাও হারাল বাংলাদেশ। ১৪৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১০০ রানও হলো না বাংলাদেশের, অলআউট ৯৬ রানে। ম্যাচ হার ৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে।

অহেতুক সব শট খেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন, তা আলাদা করে বলতেই হয়। শুরুটা করলেন তামিম ইকবাল। পেসার কাইল অ্যাবটের করা শর্ট বলটা লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। অহেতুক শট খেলতে গেলেন তামিম। ফল, বল তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে। এরপর সৌম্য সরকার। আরেক প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদার করা বাউন্সার বলটি সৌম্যের বাঁ কাঁধের ওপরে উঠে গিয়েছিল। স্কয়ার লেগে যে একজন ফিল্ডার রয়েছেন, তা জানার কথা সৌম্যর। কিন্তু তা জেনেও বাউন্সার বলটা পুল করতে গেলেন তিনি। ধরা পড়লেন স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার জেপি ডুমিনির হাতে।

মাত্র ১৩ রানেই দুই ওপেনার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে তখন মুমূর্ষু অবস্থায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দলের হাল ধরলেন মুশফিকুর রহিম। দুজন মিলে স্কোর ৫০ রানে নিয়ে মুমূর্ষু দলকে বেশ ভালোই অক্সিজেন যোগালেন। কিন্তু এরপরই বিদায় মুশফিকের। মুশফিককে ডাউন দ্য ট্রাকে আসতে দেখে বলটা তার প্যাডের দিয়ে ছুঁড়ে দিলেন ডুমিনি। সচারাচর এসব বল মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান মুশফিক। কিন্তু এবার পারেননি। বাউন্ডারির কাছে মিলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে পা বাড়ান।

তখনো যে বাংলাদেশ খুব বিপদে পড়েছিল, তা নয়। জয়ের জন্য ৭৩ বলে প্রয়োজন ৯৮ রান। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গে যোগ দিলেন সাব্বির রহমান। নিজের খেলা মাত্র ষষ্ট বলেই রিভার্স সুইপ করতে গেলেন এই তরুণ তুর্কি। ডুমিনির করা বল সাব্বিরের ব্যাটের কানায় লেগে ডি ককের গ্লাভসে। অবশ্য ক্যাচটা দুর্দান্ত নিয়েছেন প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক। কিন্তু ওই সময়ে সাব্বিরের অমন শট নিশ্চয় দৃষ্টিকটু লেগেছে সবার কাছে!

৫৬ রানে তখন নেই ৪ উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করলেন নাসির হোসেনও। নিজের খেলা প্রথম বলেই সাজঘরে নাসির। অফ স্ট্যাম্পে করা স্পিনার অ্যারন ফাঙ্গিসোর বলটি অহেতুক শট খেলতে গিয়েই শর্ট কভারে রাইলি রুশোর হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন নাসির। দলের স্কোর ২ উইকেটে ৫০ থেকে মুহূর্তেই ৫ উইকেটে ৫৭। ৭ রানেই নেই ৩ উইকেট!

এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। কিন্তু দলীয় ৭১ রানে সাকিবের বিদায়ের পরই ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। পরের ব্যাটসম্যানরা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটাই যা কমাতে পারেন। অথচ ম্যাচটা জিততে কষ্টসাধ্য কিছুর প্রয়োজন ছিল না। শুধু তাড়াহুড়ো না করে ব্যাটসম্যানরা ধৈর্য ধরে খেলতে পারলে ইতিহাসটা আজই গড়া হতো বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদ পেত টাইগাররা। সেই সঙ্গে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৮ বছরের জয় খরাও কাটত। বোলাররা কাজটা ঠিক মতো করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা আর হলো না।

সিরিজের আরেকটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাকি আছে। ব্যাটসম্যানরা তাদের ভুল শুধরে সেই ম্যাচে অন্য কিছু করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার!