মেইন ম্যেনু

বাড্ডায় ট্রিপল মার্ডার

তিন খুনের হোতা আ.লীগ নেতা ফারুক

বাড্ডা এলাকার ঝুট ব্যবসার মেরুকরণের কারণেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামাসহ ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফারুক মিলন ও হত্যার মিশনে অংশ নেয়া স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার এই কারণ জানালো।

রোববার বাড্ডা ও ভাটারা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলেও গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম ডিএমপির গণমাধ্যম কার্যালয়ে বাড্ডার তিন খুন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক মিলন এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলেও হত্যার সময় ৮ জনের একটি গ্রুপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে ফারুক ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আর গুলি করেছে তিন জন। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়া নূর মোহাম্মদ সরাসরি হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছেন।

এই হত্যার সঙ্গে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মূল কারণ উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতো স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামা। এর আগে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল যুব লীগ নেতা বাউল সুমনের হাতে। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় গামা।
এ নিয়ে গামার উপর বাউল সুমনের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের দাবি ছিলো, যেহেতু বাউল সুমনের শিষ্য ছিলেন তারা তাই এই ব্যবসার উত্তরাধিকারও তারা। তাছাড়া বাউল সুমন মারা যাওয়ার আগে কারাগারে ছিলেন। তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার পেছনে গামার হাত ছিল বলেও তার শিষ্যরা মনে করতো।

হত্যাকারীরা শুধু গামাকেই হত্যা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকারীরা গামাকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি করে। ওই সময় যারা গামার সঙ্গে ছিল তারাও গুলিবিদ্ধ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে মূল পরিকল্পনাকারী মিলনই।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদে এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যাদের হত্যা করা হয়েছে আর যারা হত্যাকারী তারা সবাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলেও তদন্তকারী সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলতে নারাজ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে। এখানে আদর্শিক কোন দ্বন্দ্ব নেই, পুরোটাই স্বার্থকেন্দ্রিক। তাই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলা যায় না।

এই মামলার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তাছাড়া এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনা গেলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও বলছেন, ঝুট ব্যবসার নতুন মেরুকরণে বাড্ডা এলাকার গার্মেন্ট ব্যবসা এবং সাব-কন্ট্রাটিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা।

এর আগে বাড্ডা থানা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক বাউল সুমন পুরো এলাকার গার্মেন্ট ব্যবসা ও সাব-কন্ট্রাটিং নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিছুদিন হলো তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই গামা পুরো গার্মেন্ট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত মাহবুবুর রহমান গামার মামাতো ভাই আমিনুর রহমান রিপন বলেন, রাজনৈতিক কারণেই গামাকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাউল সুমনের স্ত্রী ও তার অনুসারীদের হাত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নিহত শামসুদ্দিন মোল্লার ছোট ভাই জাহিদ মোল্লা বলেন, আমার ভাইয়ের অপরাধ তিনি রাজনীতি করতেন। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্প এলাকায় ১৫ আগস্টের কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে আলোচনা চলছিল। ওই সময় কয়েকজন যুবক অতর্কিতভাবে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ওই সময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দিন মোল্লা, স্থানীয় একটি হাসপাতালের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ মানিক ও স্থানীয় একটি রিকশা গ্যারেজ ম্যানেজার আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়।

এরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গামা, শামসুদ্দিন ও ফিরোজকে ইউনাইটেড হাসপাতালে এবং সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শামসু ও ফিরোজকে হাসপাতালে নেয়ার পরই ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। অপরদিকে গামা পরের দিন শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই ঘটনায় মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মতিউর রহমান শনিবার রাতে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।