মেইন ম্যেনু

‘তিন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর হচ্ছে’

দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোজক ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি)’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে মঙ্গলবার প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সেলিনা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এ অবস্থান আরো সুদূঢ় করার লক্ষ্যে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সক্রিয় অবস্থান তৈরি প্রচেষ্টাও চলছে।

মন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশের সীমান্তকে শান্তির সীমান্তে পরিণত করা পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, ভূকৌশলগত অনন্য অবস্থানের সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেতুবন্ধন এবং যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে পরিণত করতে আমরা কাজ করছি। এর মধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদূঢ় এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, তেল শোধনাগার ও বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। অচিরেই এসব দেশ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরসহ অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যেমন যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলারুশ এবং রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে সফর বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তরোত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্ম-পরিবেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বকে আশ্বস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি পুনর্বহাল, কানাডা ও ইইউতে বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বহাল রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।