মেইন ম্যেনু

তিন মাসের আন্ত:সত্বা গৃহবধুকে হত্যা: অতঃপর

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ছৈয়াল পাড়া গ্রামে তিন মাসের আন্ত:সত্বা রানি বেগম (২৭) গৃহবধুকে হত্যা। এ হত্যার ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় মামলা না নেয়ায় অবশেষে শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৭ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন রানিয়া বেগমের বাবা। ১৫জুন বুধবার এ মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের কোদালপুর ছৈয়াল পাড়া গ্রামের বিল্লাল গাজির পুত্র গনি মিয়া গাজি ও ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর বয়রা গ্রামের আহসান উল্লাহ সরকার কন্যা রানিয়া বেগমের সাথে ২০০৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত তাদের সংসার জীবন সুখেই কেটেছে। তাদের এক ছেলে আফ্রিদি (৮)। কিন্তু গত ১০জুন শুক্রবার রাতে স্বামী গনি মিয়া গাজি ও রানি বেগমের সাথে যৌতুক নিয়ে কথা কাটা কাটি হয়। কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে ঝগড়া বাধেঁ। ঝগড়ার সময় গনি মিয়া রানিয়ার তল পেটে লাথি মারলে রক্তক্ষরন হয়ে রানিয়া ঘটনা স্থলে মারা যান। স্বামী গনি মিয়া, শাশুরী সুফিয়া বেগম ও দেবর হাসেম ও সোহাগ মিলে রানিয়াকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা গোসাইরহাট থানায় বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। মেয়ের বাবা মো: আহসান উল্লাহ সরকার গোসাইরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নেয় নি।

গোসাইরহাট থানায় মামলা না নেয়ায় অবশেষে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ছৈয়লপাড়া গ্রামের আ: গনি মিয়া গাজী (৩৫), সুফিয়া খাতুন (৬০), হাসেম গাজী (৩০), সোহাগ গাজী (২৫) ও সুরুজ মিয়া (৩৫) ডামুড্যা উপজেলার গড়োয়া জহু মোল্যার কান্দি গ্রামের ফজর আলী মিজি (৩৮) ও ছাবিনা বেগম (৩৪) নামের ৭ জন আসামী করে মো: আহসান উল্লাহ সরকার বাদী হয়ে শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে রানিয়া বেগমের বাবা মো: আহসান উল্লাহ সরকার বলেন, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য ওরা মেরে ফেলেছে। আমি বিচার পাওয়ার জন্য গোসাইরহাট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। তাই আমি শরীয়তপুর কোর্টে মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।