মেইন ম্যেনু

তিন মিনিটের কিলিং মিশন

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে।

মাত্র তিন মিনিটের কিলিং মিশন শেষ করে খুনিরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুন্দরগঞ্জ বাজারে জামায়াত নেতা আবদুল গফুর মণ্ডলের দুটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংসদ সদস্য লিটনের ভগ্নিপতি বাদল রহমান জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় সংসদ সদস্য তিনি তার দ্বিতল বাসভবনের নিচতলার বৈঠকখানায় বসে ছিলেন। এ সময় কতিপয় দলীয় কর্মীর সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনা চলার সময় তিনজন যুবক হেলমেট পরা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসার সামনে আসে। তাদের একজন বাইরের আঙিনায় স্টার্ট দেয়া মোটরসাইকেলে বসে অবস্থান করছিল। অপর দু’জন লিটনকে লক্ষ্য করে ঘরের জানালা দিয়ে খুব কাছ থেকে আকস্মিকভাবে গুলি ছোড়ে। এরপরই দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা এমপি লিটনকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি তার বুকের দু’পাশে ও হাতে বিদ্ধ হয়। এ সময় তিনি একটি গুলি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ওই গুলি তার হাতের তালু এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে বেরিয়ে যায়।

মাত্র তিন মিনিটে দুর্বৃত্তরা এমপি লিটনকে উদ্দেশ্য করে একাধিকবার গুলি ছুড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলির শব্দ শুনে বাড়ির ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। তিন যুবককে পালাতে দেখলেও স্থানীয়রা তাদের আটক করতে পারেনি।

একটি সূত্র জানায়, ওই সময় অন্ধকার থাকায় কাউকে চেনা যায়নি। এছাড়া হামলাকারীরা মাথা থেকে হেলমেটও খোলেনি।

এমপি লিটনের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী ছিলেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, পঞ্চগড়ের পুরোহিত ও ধর্মান্তরিত কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই রকম তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন। এই কিলিং মিশনের ধরন একই রকম। তাদের হাতে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি হত্যাকারীরা কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

তবে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এই গুলির খোসা পিস্তলে ব্যবহার করা যায় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় উত্তেজনার কারণে বড় ধরনের সহিংসতা রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওই ঘটনার পরপরই এমপি লিটনের বাড়ি সংলগ্ন বামনডাঙ্গা বাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।