মেইন ম্যেনু

তিমির বমির দাম ১৭ হাজার ডলার!

সমুদ্র সৈকতে পোষা কুকুরটিকে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন ব্রিটেনের ওয়েলস এলাকার এক বাসিন্দা। এটা তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। দৌড়ের সময় অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে না কোনো দিন। কিন্তু, ওই দিন যেন বাতাসে ভেসে এল কোন ‘অমূল্য রতন’র আঘ্রাণ। এক ধাক্কায় প্রায় ১৭ হাজার ডলার বেড়ে গেল সেই ভাগ্যবান ওয়েলসবাসীর সম্পত্তির পরিমাণ।

ওয়েলস এলাকার ওই বাসিন্দা যত সামনে এগোন, ততই যেন সুগন্ধি হয়ে উঠছিল বাতাস। কিছু দূর এগিয়েই সৈকতের বালিতে রাগবি বলের মতো কিছু পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাঁর পোষা কুকুরটি ততক্ষণে মহা উৎসাহে শুঁকতে শুরু করেছে কালো-হলদে ছোপ ছোপ বলটিকে। অচিরেই বোঝা যায় বস্তুটি রাগবি বল নয়। বেশ ভারিও। এক কিলোগ্রামের বেশি ওজন। সুগন্ধি বস্তুটিকে চিনতে ভুল হয়নি সৌভাগ্যবানের। কুড়িয়ে নিয়েই সোজা হাজির হন এক নিলামের আখড়ায়। নিলামদার পরীক্ষা করে জানান, বস্তুটি খাঁটি অ্যাম্বারগ্রিজ। তিমি মাছের বমি। সমুদ্র সৈকতে সচরাচর এভাবে খুঁজে পাওয়া খুব সৌভাগ্যের বিষয়।

তিমি মাছের অন্ত্রে অ্যাম্বারগ্রিজ তৈরি হয়। জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন, তিমির অন্ত্রের ভেতরে জ্বলন কমানোর জন্য এক ধরনের ক্ষরণ হয়। সেই ক্ষরণ থেকেই অ্যাম্বারগ্রিজের উৎপত্তি। কিছুদিন পর পর বমি বা মলের সঙ্গে তা তিমির শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। অ্যাম্বারগ্রিজ হল পারফিউম তৈরির অপরিহার্য উপকরণ। পারফিউমে সুগন্ধের মাত্রা বাড়াতে এবং তাকে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী করতে অ্যাম্বারগ্রিজ ব্যবহার করা হয়। তাই বস্তুটির মূল্যও আকাশছোঁয়া। ওয়েলসের সৈকতে যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে, সেটি আবার অন্তত ৫০ বছর সমুদ্রের নীচে ছিল বলে পরীক্ষায় প্রকাশ।

ন্যুনতম দরটা বেশ চড়াই রেখেছিলেন নিলামদার। তাতেও নিলামে ৫০ জন অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাঁড়ায় দুইজনের মধ্যে। ফোনে দর হাঁকতে থাকা এক ব্যক্তি অবশেষে ১৬ হাজার ৭০০ ডলার দিয়ে তিমির বমির পিণ্ডটি নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন। নিলাম সংস্থা ক্রেতার নাম প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি জানায়, ক্রেতা ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার জন্যই ওই অ্যাম্বারগ্রিজ কিনেছেন।