মেইন ম্যেনু

তিস্তাপারের চাঁন মিয়া জীবন নৌকায় পার হতে পারেনি

দাদা মৃত হাসমত আলী মিস্ত্রি জীবন সংসারের প্রায় ৪০/৪৫ বছর ধরে এবং দাদার হাত ধরে বাবা মৃত হছদ্দি মিস্ত্রি একই ভাবে জীবন সংসারের ঘাঁনি টানতে তিস্তা নদীর পারেই বসে নৌকা তৈরীতে ব্যাস্ত থেকে সংসার জীবনটা কাঁটিয়ে দিয়েছেন। বাব-দাদার হাত ধরেই আমিও জীবনের প্রায় ২০/২৫ ধরে বাবার মতোই তিস্তানদীর কিনারে বসে নৌকা তেরী করছি জীবিকার তাগিদে।

কথাগুলি বলছিলেন তিস্তাপারে নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত মিস্ত্রি চাঁন মিয়া (৩২)। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামে গত শুক্রবার ২৫ ডিসেম্বর তিস্তাপারে দেখা মিলে নৌকা বানানোর মিস্ত্রি চাঁন মিয়ার সাথে।

এ সময় তার সাথে কথা হলে জীবন সংসারে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বর্ননা করতে গিয়ে চান মিয়া বলেন, আমার বাব-দাদার আমলে তিস্তা নদী বারো মাসেই ভরা যৌবনে থাকতো। তিস্তানদীর ঢেউয়ে তিস্তাপার কলকাকলীতে ভরে থাকতো দিনরাত। বছর জুড়েই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখা যেত তিস্তানদীতে। প্রতিনিয়ত ভেঁসে উঠতো ঘড়িয়াল,শিশু কুমির সহ নানা প্রজাতির বিচিত্র প্রাণী। শিশুরা ছুটতো এসব প্রাণীর চিৎকার শুনতে তিস্তাপারে।

এ যেন অন্যরকম এক দৃশ্য। যা শুধু এখন স্মুতি। বাস্তবে এ দৃশ্য দেখতে আরো অনেককাল অপেক্ষা করতে হবে বর্তমান প্রজন্মকে। এ সময় নৌকা ছিল তিস্তা পারের মানুষের একমাত্র বাহন। নৌকায় করে তিস্তার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও তিস্তাপারে ভেঁসে উঠা নুড়িপাথর আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতো হাজার হাজার পরিবার।

কিন্তু এখন আর তিস্তা যৌবনে রুপ নেয় না। ভরা তিস্তা এখন আর চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র বর্ষাকালে তিস্তা তার যৌবন ফিরে পেলেও ২-৩ মাস পরেই আগ্রাসী তিস্তানদী মরা খালে পরিণত হয়। ফলে এখন আর নৌকা বানাানোর ধুঁম পরে না। পরিবর্তন হয় না জীবনের গতি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নৌকা বাঁনিয়ে শতশত মানুষকে সেই নৌকার মাঝি করে হাল ধরিয়ে দেই। তাদের জীবন সংসারের আয় উন্নতি হলেও আমার জীবন সংসারের হাল পরিবর্তন করতে পারিনি আজো। এক ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ী ভিটে ১০ শতাংশ জমি ব্যতিত কিছুই নেই।

শুধু নৌকা বাঁনিয়ে সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। বছরে মাত্র ৩/৪ মাস নৌকা তৈরী করে সংসার চললেও বাকী দিনগুলি বসেবেস পার করতে হয়।

তিনি বলেন,একটি ২০/২১ হাত নৌকা তৈরীতে করতে সময় লাগে ১০/১২ দিন। মজুরী পড়ে দৈনিক ৩-৪’শ টাকা। নৌকা তৈরীতে ব্যয় হয় ৩০/৩৫ হাজার টাকা। আর ৪০ হাত নৌকা বানাতে ব্যয় হয় প্রায় লাখ টাকা। এত টাকা ব্যয়ে নৌকা বানিয়ে মহজনের পোষায় না। তাই তারা নৌকা বাঁনাতে এখন চায় না।