মেইন ম্যেনু

তিস্তাপাড়ে কৃষকের গলার ফাঁস পানি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা-বড়খাতা সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে ধেয়ে আসা পানি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমন চাষের উপযোগী জমিগুলো পানতে থৈ থৈ করায় চারা লাগাতে পারছে না তারা।

কৃষকরা জানান, মাস খানেক আগে পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। ভাঙা জায়গা দিয়ে তিস্তার পানি গিয়ে জমিতে পড়ছে। এলাকাবাসী আপাতত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করলেও ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত না করায় পানিবন্দি হয়ে পড়া জমিতে ধান রোপন করতে পারছেন না কেউ।

আমনচাষীরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ভাঙা অংশ বন্ধ করা না হলে হাতীবান্ধা ভায়া বড়খাতা সড়কের পূর্ব দিকের পানিবন্দি হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এবছর আমন চাষ সম্ভব হবে না। আর এতে করে কয়েক হাজার কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

গড্ডিমারী এলাকার কৃষক আশরাফ (৪২) জানান, সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে তার ৭ বিঘা জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই কথা বললেন এলাকার আব্দুর রহমান (৫০), ফরহাদসহ (৪৫) অসংখ্য কৃষক।

চাষীরা জানান, সড়কটির পূর্ব দিকে বিশাল অংশের নিচু জমিতে প্রতিবছর আমন চাষ করে আসছেন ৪ ইউনিয়নের অসংখ্য কৃষক। কিন্তু জমিগুলোতে বর্তমানে কোমর অবধি পানি থাকায় তাতে চারা লাগাতে পারছে না কেউ। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে সড়কের ভাঙা অংশ বন্ধের জন্য কৃষকরা দাবি জানিয়ে আসছে ঠিকই। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না বলে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের।

দেখা গেছে, গড্ডিমারী বাজারের অদূরের হাতীবান্ধা-বড়খাতা সড়কের ওই ভাঙা অংশ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ঢুকছে। এতে রাস্তার পূর্ব দিকে গড্ডিমারী, সিংঙ্গীমারী, সিন্দিুর্ণা ও পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের নিচু অংশের কয়েক হাজার হেক্টর জমি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব জমিতে এখন পর্যন্ত আমন ধানে চারা লাগাতে পারেনি কোনো কৃষক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারমান জালাল উদ্দিন বুলু বলেন, কৃষকদের বাঁচাতে হলে একযোগে দুটি ভাঙা অংশ বন্ধ করতে হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সম্প্রতি পাশ্চিমে থাকা তিস্তা নদীর বাম তীরের বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড বেগে ছুটে আসা পানির ধাক্কায় হাতীবান্ধা-বড়খাতা সড়কটি বিধ্বস্ত হয়। সেই পানি এখন ৪ ইউনিয়নের অসংখ্য আবাদি জমিতে থৈ থৈ করছে। তাই বাঁধ ও সড়কের ভাঙা অংশ দুটি একযোগে বন্ধ করা হলে কৃষকরা চলতি বছর আমন চাষের সুযোগ পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

জানতে চাইলে হাতীবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ওই সড়কের পশ্চিমে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ প্রটেকশন দিলে আমরাও সড়কের ভাঙা অংশ বন্ধ করবো।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষটি নিয়ে লালমনিরহাট পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। এরমধ্যে তারা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেছেন।