মেইন ম্যেনু

তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গন : পাঁচ শতাধিক পরিবারের মানবেতর জীবন

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা করেসপন্ডেট, নীলফামারী : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় স্মরনকালে এবারের ভয়াবহ তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শত শত পরিবার গৃহহার হয়ে ডালিয়া পাউবো’র গাইড বাঁধ, গ্রোয়েন বাঁধ ও সিলট্রাবে কেউবা খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ মাথার গোজার ঠাই করে কুড়ে ঘর নির্মাণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। উজানের ঢলে ও গত এক সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টির ফলে কড়াল গ্রাসী তিস্তা নদী ফুঁসে উঠেছে।

উপজেলার প্রায় অর্ধ-শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৪,৫, ৬,৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ী, জায়গা-জমি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ হাজার হাজার বিঘা জমি তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব রিক্ত হস্তে এসব পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছে পাউবো’র দক্ষিন খড়িবাড়ী গাইড বাঁধ ,ছোটখাতা গ্রোয়েন বাঁধ এবং ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে ছোটখাতা সীমান্ত বাজার সিলট্রাবে।

গত শুক্রবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, একতার বাজার চর খড়িবাড়ী গ্রামের দুলাল খাঁর পুত্র ইব্রাহিম খা (৫৬), আব্দুল গফুর (৪৮) , আজগর আলীর স্ত্রী বাছিরোন (৯৬) মৃত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী আওয়া বেগম (৭৬), প্রতিবন্ধি শাহার আলীর ( এক চোখ অন্ধ) স্ত্রী রূপজান খাতুন (৫৫), মোঃ আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম (৪৫), গোলাপ খাঁর পুত্র শাহার আলী (৬০), টেপাখড়িবাড়ী ৪ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা মৃত ছলিমদ্দিনের পুত্র কাশেম আলী (১০৫),আফচার আলি (৬৫)সহ প্রায় পাচ শতাধিক মানুষ তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়ে সব কিছু হারিয়ে একটু মাথা গোজার ঠাঁই খুজে ফেরছে।

67d3104b-6a51-4d25-a91c-f651c75709ab

এ সময় শাহার আলী জানায়, আমরা শেষ হয়ে গেছি। আমাদের চার ভাইয়ের প্রায় এক’শ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। ঘরে মধ্যে রাখা প্রায় প্রায় এক’শ মন ভূট্টা, ২০/২৫ মন বাদাম,১০/১৫ মরিচসহ প্রায় পাচ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভেসে গেছে। শুধু ঘরের কিছু টিনের চাল ছাড়া কিছুই নিতে পারিনি। আমরা নি:ম্ব হয়েছি। শেষ হয়ে গেছি জীবনের তরে। কিছুই ফিরে পাবো না হয়ত কোনদিন। এভাবেই কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বাস্তু ভিটা হারা মধ্যেবয়সী নারি র”পজান খাতুন। তিনি বলেন কি আর থাকলো। শুধু জীবন গুলি নিয়ে জীবন তরী ভাসিয়ে তীরে এসে ঠেকেছি । জানি না কপালে আর কি আছে। এসব ভাঁনবাসী মানুষের কাঁন্নায় তিস্তাপাড় ভারী হয়ে ওঠেছে। শতবর্ষী নারী বাছিরোন বেওয়ার কন্ঠে একই কান্না। আর্তনাতে বুক ভাসছে তার।

এ সময় দেখা মিলে সার্বক্ষনিক তদারকির কাজে ব্যস্থ থাকা উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের সাথে তিনি বলেন, এসব নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষদের যেন জানমালের কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাদেরকে সার্বক্ষনিক মনিটরিং অব্যহত রাখা হয়েছে । থাকার জায়গা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে দ্রুত গতিতে। যত দ্র”ত সম্ভব এানের ব্যবস্থা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যেসব মানুষ তিস্তার চরে পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাদেরকে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের জন্যও বিশুদ্ধ পানি ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তিস্তাপাড়ে কথা হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নীলফামারী জেলা প্রকৌশলী মাহমুদ আলীর সাথে তিনি, আমরা গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ জনের জন্য ইতি মধ্যেই ১৩টি নলকুপ বসিয়ে দিয়েছি। আরো ১০টি বসানোর কাজ চলছে। আমার জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আপাতত পানি খাওয়ার জন্য বেশ কিছু জারিকেন দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে।

f51066dd-d26f-49af-be54-963fbe588fb5

কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনের সাথে তিনি বলেন,যারাই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় মানুষজন সহ বিভিন্ন যুব সংগঠনগুলি। এসব বনার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তারাও বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে খিচুরী, চিড়া,মুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য। এ ছাড়াও উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তাদের কাছে এানের সামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে।

গত একমাস ধরে তিস্তার পানি বন্দি মানুষদের পাশেই রয়েছে উপজেলা প্রশাসনসহ টেপাখড়িবাড়ী ইউপি পরিষদ। তিনি আরো বলেন, যারা বসত ভিটা হারিয়ে বাঁধে কিংবা বিভিন্ন জায়গা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তিস্তা পারে কন্ট্রোল ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প বসানো হয়েছে। জেলার সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা বনার্ত এলাকা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার আশ্রয় নেয়া মানুষজনদের সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। মেডিকেল ক্যাম্পে এসব বনার্ত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে সার্বক্ষনিক। মেডিকেল ক্যাম্পে রয়েছে এমবিএিস ডাক্তার ও স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মীগণ। রয়েছে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ক্যাম্প। সার্বক্ষনিক মনিরটরিং এ রয়েছে জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।