মেইন ম্যেনু

তিস্তা নিয়ে মোদিকে ঢাকার চাপ, নারাজ মমতা

ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় বাংলাদেশ-ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা চুক্তি করতে রাজি করাতে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু মমতা তিস্তা চুক্তি করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন।

রোববার পর্যটন নগরী গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বৈঠকের আগেই তিস্তা চুক্তির জন্য ভারতের ওপর ঢাকা প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সম্মেলন বর্জনে ভারতের সিদ্ধান্তকে প্রথম সমর্থন করেছিল বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশ সরকারের দাবি, ভারত এবার অবিলম্বে তিস্তা চুক্তিতে সই করুক।

এজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তিস্তা চুক্তির গুরুত্বকে তুলে ধরতে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা জোরদার লবি শুরু করেছেন।

বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রীও এ নিয়ে বেশ সক্রিয় হয়েছেন। মৎস্য ও পশু সম্পদমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ বলেছেন, সন্ত্রাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে মোদির ভাবনাকে শেখ হাসিনা শতভাগ সমর্থন করেছেন। তাই ভারত সরকারেরও উচিত তিস্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা।

এদিকে তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের মতোই আপত্তি করায় বাংলাদেশ এবার পুরো ব্যাপারটা মোদির মাধ্যমেই করতে চাইছে।

নয়াদিল্লির কূটনীতিকদের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৬ অক্টোবরের বৈঠকে মোদি তিস্তার ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তাই দেবেন। আর মমতার আপত্তিও দ্রুত মিটমাট করতে চান মোদি।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সচিব ভাস্কর খুলবেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া তিস্তা নিয়ে সিকিমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যে বিরোধ চলছে, তাও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সম্প্রতি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ওই সময় তিনি জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি সমর্থন করতে তার কোনো অসুবিধা নেই।

চামলিং ফের দিল্লি সফর করবেন ২৩-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় তিনি তিস্তা এবং সিকিমের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সংক্রান্ত জটিলতার অবসানের জন্য চেষ্টা করবেন।

এদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি তিস্তা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করবেন।

নরেন্দ্র মোদি চামলিং এবং মমতার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিতে দার্জিলিংয়ে ধস ঠেকাতে তিস্তা তীরবর্তী বাঁধ অপসারণ এবং ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন-এনএইচপিসির দুই রাজ্যের বৈঠকের ব্যবস্থা রেখেছেন।