মেইন ম্যেনু

তীব্র লোডশেডিং : হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিঠি

এম.এ আয়াত উল্যা, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী : নোয়াখালীতে তীব্র লোডশেডিং চলছে। জেলা শহরের অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও শহরের বাইরে অনেক গ্রাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ ঘণ্টাই থাকছে বিদ্যুৎবিহীন। প্রচন্ড গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রাহকেরা। এই পরিস্থিতিতে কার্যালয়গুলোতে গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কা করছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা। সমিতির পক্ষ থেকে সহযোগিতা চেয়ে জেলা ও থানা-পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শংকর লাল দত্ত বলেন, হঠাৎ লোডশেডিং চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গড়ে ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে সংস্থার কার্যালয় ও স্থাপনা রক্ষার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর আটটি উপজেলায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক প্রায় তিন লাখ। প্রতিদিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে ৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে দেওয়া হচ্ছে পিক আওয়ারে ৪০-৪৩ মেগাওয়াট। আর অফ পিক আওয়ারে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে দেওয়া হয় ৩৯ মেগাওয়াট। আর অফ পিক আওয়ারে দেওয়া হয় ৩৪ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় জেলার প্রায় অর্ধেক এলাকা অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকে। একেকটি শাখা লাইনে গড়ে ১৫-১৬ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চাটখিল বাজারের ব্যবসায়ী হারিছ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আট ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পান না তাঁরা। বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উপজেলা ও গ্রাম এলাকার তুলনায় জেলা শহরের অবস্থা কিছুটা ভালো।

শহরের প্রতিটি এলাকায় কমবেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে জেলা শহরের বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাহকের জন্য পিক আওয়ারে ২৫ মেগাওয়াট, আর অফ পিক আওয়ারে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে বর্তমানে পিক আওয়ারে ১৮-২০ মেগাওয়াট আর অপ পিক আওয়ারে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এ অবস্থায় পালা করে প্রতিটি লাইনেই কমবেশি লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ-সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কী কারণে সরবরাহ কম, তা তাঁরাও জানেন না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।