মেইন ম্যেনু

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল

সুষ্ঠু পরিবেশে চলছে এবারের প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম দিনে এখন চলছে জুমা নামাজের বিরতি। দুপুর দেড়টায় নামাজে অংশ নিতে মুসুল্লিদের ঢল নেমেছে টঙ্গীর তুরাগ তীরে।

দিল্লির তাবলীগের মারকাজ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন।তিনি ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্ধারিত প্যান্ডেলে অবস্থান করছেন। আজ জুমা নামাজ পড়াবেন তিনি। মাওলানা সাদ গত দুই বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে মোনাজাতের পূর্বে তিনি শুধু হেদায়তি বয়ান করতেন।

মাওলানা সাদ তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহ)এর নাতি। বর্তমানে তিনি তাবলিগ জামাতের বিশ্ব মারকাজ দিল্লির নিজামুদ্দিনে মুরব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দিল্লী নেজাম উদ্দিন মসজিদের ঈমাম মাওলানা সাদ।

তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বিরা জানিয়েছেন, গত ১১ জানুয়ারি বুধবার বিকেল থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন। অতীতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব থেকে আগত মুসল্লিদের ইজতেমা মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সমস্যা হতো। কোনো রকম অসুবিধা যাতে না হয় সেজন্য দেশের ৬৪টি জেলাকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়। এদের মধ্যে এ বছর নির্দিষ্ট ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন।

প্রথম পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগিতে অংশ নেবেন। ঢাকা জেলার মুসল্লিরা দুই পর্বেই অংশ নেবেন।এরপর সারা দেশের মুসল্লিরাও দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নেবেন। মাঠে মুসল্লিদের অবস্থানও জেলাওয়ারি নির্দিষ্ট খিত্তায়(ভাগে) বিভক্ত করা হয়েছে।

দেশি-বিদেশি ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামগণ ছয় উসুল যথা-ঈমান, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমীন, তাসহীহ নিয়ত, দাওয়াত ও তাবলীগ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বয়ান রাখবেন। মূল বয়ান সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করা হবে।

এর আগে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় আম বয়ানের মধ্য দিয়ে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এ বৃহৎ জমায়েত উপলক্ষে দেশ বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসুল্লি ইজতেমা ময়দানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে বয়ান শুনতে ছুটে আসছেন তারা। দুপুরে খাওয়ার পর আবারও বয়ান শুরু হবে। আছরের নামাজের বিরতি শেষে আবারও শুরু হবে বয়ান।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো গত বছর থেকে শুরু হয় দেশের ৬৪ জেলাকে চার ভাগ করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন। ওই বছর মোট ৩২টি জেলা নিয়ে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। এ বছর দুই পর্বে বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।

প্রথম পর্বে অংশ নেবে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার মুসুল্লিরা। অবশিষ্ট ১৫ জেলার মুসুল্লিরা আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এ পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বিরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে বাকি ১৬ জেলার তাবলিগ অনুসারীরা। ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা।