মেইন ম্যেনু

তেলাপোকার অত্যাচারে অতিষ্ট পঙ্গুর রোগীরা

তেলাপোকা ও ছারপোকার অত্যাচারে জেনারেল ওয়ার্ডের বিছানায় থাকতে পারছেন না রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের (পঙ্গু হাসপাতাল) রোগীরা।

রোগীদের অভিযোগ, বিছানাগুলো ছোট-বড় তেলাপোকা ও ছারপোকায় ভরপুর। বিশেষ করে বালিশগুলোতে বেশি। রাতে ঘুমানোর সময় শরীরের উপর তেলাপোকাগুলো উঠে আসছে। সারারাত নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে হাসপাতালের চতুর্থ তলার জেনারেল ওয়ার্ডে (পেইন ওয়ার্ড) গেলে এই প্রতিবেদকও বিছানা ও বালিশে তেলাপোকা দেখতে পান। সেখানে দেখা যায় তেলাপোকার অসংখ্য ছোট ছোট বাচ্চা রোগীদের বিছানা ও বালিশের উপর চলাচল করছে। সেই সঙ্গে রোগীর কাপড় চোপড়েও প্রবেশ করছে।

সেখানে কথা হয় রংপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জমিলা বেগমের সঙ্গে। বাড়িতে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ৪ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

জমিলা জানান, তেলাপোকা, ছারপোকা, আয়া ও নার্সদের যন্ত্রণায় মাঝে মাঝে পা ব্যথার যন্ত্রণা ভুলে যাই। এখানকার নার্সদের ব্যবহার খুব খারাপ। যে কোনো সমস্যার ব্যাপারে বলতে গেলেই চেঁচিয়ে উঠে বলে, নার্স দেখলেই সমস্যা বাড়ে তাই না! তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ ভালো বলে জানালেন তিনি।

তিনি বলেন, তেলাপোকার অত্যাচারে খাবার খেতে পারি না। খেতে বসলেই খাবারের উপর তেলাপোকা উঠে আসছে। এছাড়া রাতে তেলাপোকার ছোট-ছোট বাচ্চাগুলো শরীরের উপর উঠে পড়ে। এ কারণে ঘুমানো যায় না।

একই বিষয়ে কথা বলেন, পাশের বেডের এক নারী। তবে তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। যদি চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটে এই ভয়ে।

তিনি জানান, কোনো সমস্যার কথা বলতে গেলেই নার্সরা যে খারাপ ব্যবহার করেন তা খুব কষ্টকর। তিনি বলেন, আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয়।

পাশের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় এক শিশুকে। সেখানে যাওয়া মাত্রই শিশুটির মা বলেন, এখানে শুধুই ভোগান্তি। নার্স আর আয়াদের অত্যাচারে থাকার ইচ্ছে করে না। তবে ডাক্তারদের ব্যবহার ভালো হওয়ার কারণেই আছি।

তিনি বলেন, আমার বাচ্চাটা চোখের সামনে ব্যথায় কান্না করছে। আমি মা হিসেবে সেটা সহ্য করতে পারছি না। দৌঁড়ে নার্সদের কাছে জানাতে গেলে তারা ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

সেখানেই কথা হয় এক রোগীর স্বজন মুনিরার সঙ্গে। তিনি জানালেন, রোগী আমার মা। বিছানাতে বসা মাত্রই ধমক দিলেন একজন নার্স। রীতিমতো হাসপাতাল থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার মতো অবস্থা।

তিনি জানালেন, রোগীরা ব্যথায় আহাজারি করলেই ধমক দিয়ে চুপ করে দিচ্ছে নার্সরা। তাদের অত্যাচারে হাসপাতালে থাকায় দায়।

এসব ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বরত একজন নার্সের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি নিজের নামও বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, নাম জেনে কি নিউজ করবেন। কি হবে তাতে। আমরা এখানে কেউ ভেসে আসেনি। ২০-২৫ বছর ধরে চাকরি করছি। কে কি করবে আমাদের। কাউকে ভয় করার কিছুই নাই।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে দুপুর ২টায় হাসপাতালের কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। বিকেলে হাসপাতালের সবকটি টেলিফোন নম্বরে (+৮৮-০২-৯১৪৪১৯০-৪, +৮৮-০২-৯১১২১৫০) একাধিকবার ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি।জাগো নিউজ।