মেইন ম্যেনু

তেলবাহী ওয়াগন খালে

তেল অপসারণে দুই স্পিড বোট

বোয়ালখালীতে রেল সেতু ভেঙে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেলবাহী ওয়াগনের ইঞ্জিনসহ চারটি ট্যাংকার খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় খালে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে কাজ শুরু করেছে কোস্ট গার্ডের দুইটি হাই স্পিড বোট।

‘ডিফেন্ডার বোট’ ও ‘ম্যাটাল সার্ক’ নামের এই দুই হাই স্পিড বোর্ট রোববার বেলা ১২টা থেকে কাজ শুরু করেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, ‘বেলা ১২টা থেকে আমাদের দুইটি হাই স্পিড বোট কাজ শুরু করেছে। তেল অপসারণে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোস্টগার্ড সদস্যরা এতে অংশ নিয়েছেন। ফোমের মাধ্যমে খাল থেকে তেল তুলে নেয়া হচ্ছে। খালে ছড়িয়ে থাকা তেলের পরিমাণ বেশী হয়। আজকে অথবা কালকের মধ্যে এসব তেল অপসারণ করতে পারবো আমরা।’

এছাড়া তেল অপসারণ করতে চট্টগ্রাম বন্দরের একটি টাগ বোর্ট আসছে বলে জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লে. কমান্ডার দুরুল হুদা।

এর আগে রেলসেতু ভেঙে তেল পানিতে মেশার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সবগুলো মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে বিষয়টি অবহিতকরার পরও যথাযথ সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মইনুদ্দিন খান বাদল। রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ ধরনের সমন্বয়হীনতার বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখার জন্য স্পিকাররের কাছে রুলিং দাবি করেন।

এদিকে চারটি ট্যাংকার খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে রোববার সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ডুবে যাওয়া তেলবাহী ওয়াগনের যে তেল এখন নদীতে ভাসছে, সেই তেল বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে ৩০ টাকা লিটার দরে কিনে নেবে সরকার। স্থানীয়দের ব্যাপকভাবে তেল তোলার জন্য আহ্বান করছি।’

গত শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক মকবুল হোসেন বলেছেন, ‘পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা অমাদের নেই। এক্ষেত্রে সুন্দরবনের শেওলা নদীতে যেভবে স্থানীয়রা সনাতনী পদ্ধতিতে তেল অপসারণ করেছে, পারলে কর্তৃপক্ষ সেটি করতে পারে।’

প্রসঙ্গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বোয়ালখালীর সারোয়াতলী ইউনিয়ন ও পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী ২৪ নম্বর রেল সেতুটি ভেঙে তেলবাহী ওয়াগনের তিনটি ট্যাংকার খালে পড়ে যায়। এঘটনায় চালকসহ তিনজন আহত হন। ঘটনার কারণ উদঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার বেলা ১২টা থেকে দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে অক্ষত থাকা তেলভর্তি ট্যাংকার থেকে খালী ট্যাংক করে তেল ট্রান্সফারের কাজ শুরুর কাজ করছে রেলওয়ে।

এদিকে তেলবাহী ওয়াগনের ট্যাংকার খালে পড়ে তা ছড়িয়ে যাওয়ায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিনটি ট্যাংকার থেকে খালে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল জোয়ারের সময় বোয়ালখালী খালের উজানে প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ভাটায়ও প্রায় ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। প্রতিটি ওয়াগনে ২৬ হাজার ৮শ লিটার করে ফার্নেস অয়েল ছিল। সে হিসাবে ৮০ হাজার ৪শ লিটার ফার্নেস অয়েল বোয়ালখালী খাল হয়ে সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে। প্রতিটি ওয়াগনে ২৬ হাজার ৮শ লিটার করে ফার্নেস অয়েল ছিল।

এছাড়া খালের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসলী জমি, জলায়শয় ও পুকুরেও এই তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পুকুরের মাছ মারা যেতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। খালের ছোট ছোট মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মরে ভেসে উঠেছে বলে জানা যায়।