মেইন ম্যেনু

তেল উৎপাদন বিষয়ে বৈঠকে বসছে সদস্য দেশগুলো

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক দিন ধরেই বেশ কম রয়েছে। তেলের উৎপাদন বেশি থাকার ফলেই এমনটি হয়েছে। এ কারণে তেল উৎপাদন কমানোর কথা বলছে কোনো কোনো দেশ।

এ বিষয়ে তেল রপ্তানিকারকদের সংগঠন ওপেক ও এর বাইরের অন্যান্য উত্তোলক দেশ আগামী রোববার কাতারের দোহায় বৈঠকে বসছে। বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা হবে- তেলের উৎপাদন সীমিত করার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছানো।

এদিকে এ বৈঠকে তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি এজেন্সি (আইইএ)।

আইইএ বলছে, ধারণা করা হচ্ছে ২০১৬ সালে ওপেক বহির্ভূত দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন দিনে ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল কমবে। যেখানে চলতি বছর এর পূর্বাভাস ছিল ৬ লাখ ব্যারেল। সার্বিক দিক বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে।

সংস্থাটির এপ্রিল মাসের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের সরবরাহ কমানোর চেয়ে উৎপাদক দেশগুলো যদি উৎপাদন সীমিত করার বিষয়ে একমতে পৌঁছে, তবে সরবরাহের ওপর তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিকটতম সময়ে বাড়বে না। ৫০ ডলারের মধ্যেই ঘুরপাক খেতে পারে। এর আগেও সৌদি আরব, রাশিয়া ও কাতার তেলের উৎপাদন সীমিত করার ব্যাপারে একমতে পৌঁছে। কিন্তু তার প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যায়নি। বাজার দর ধারাবাহিকভাবে কম ছিল।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দাম কমতে থাকে। ওই সময় এক ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ১১৭ ডলার। গত দেড় বছরে এই দর কমতে কমতে ২৬ ডলারে এসে ঠেকে। এরপরই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে তেল উৎপাদক দেশগুলো।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তেলের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো। তখন জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে সৌদি আরব, কাতার, ভেনেজুয়েলা এবং রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীরা তেল উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে একমত হন।

ওই বৈঠকে আরো জানানো হয়, বৈঠকের পরের সপ্তাহেই তেলের বাজারে পরিবর্তন দেখা যায়। তেলের দাম কিছুটা বাড়ে তখন।

এর আগের ১৮ মাস ধরেই তেলের দাম ধারাবাহিকভাবেই কমেছিল। আগের দামের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যায় তেলের দাম। এর মূল্যহ্রাসের কারণে সৌদি আরবের মতো বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বিপাকে পড়ে। এই কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার দেশটির নাগরিক সুবিধা অনেকক্ষেত্রেই কমিয়ে আনে।

জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই রাশিয়া, ইরান ও সৌদি আরবসহ ওপেকের দেশগুলোকে তেলের দাম বাড়ানোয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকে সব দেশ তেলের দাম বৃদ্ধিতে সহযোগিতা না করলে সৌদি আরব নিজেরাই উৎপাদন কমিয়ে দেবে। কারণ তেলের ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরবের অর্থনীতি। সম্প্রতি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ঘোষণা দিয়েছেন, ২০১৬ সালে তেলের বাইরেও অন্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হবে।

এদিকে তেলসমৃদ্ধ সৌদি আবর ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে আইইএ জানিয়েছে, দেশগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ তেল রয়েছে। তা ছাড়া ইরানও তেলের উৎপাদন কমাবে না বলে জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা না উঠানো পর্যন্ত তারা উৎপাদন বাড়াবে।

সুতরাং দোহার এই বৈঠক খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে না আইইএ।

এদিকে, দোহার বৈঠকে তেলের উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে চুক্তি হবে- সে আশায় গত কয়েকদিন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দর বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবারও বাজারে উন্নত মানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলে ১২ সেন্ট বেড়ে ৪৪.০৬ ডলারে বিক্রি হয়।

এসব বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম রাইজিংবিডিকে বলেন, অন্যান্য দেশগুলোতে যেহেতু জ্বালানি তেলের নিম্ন দর সমন্বয় হচ্ছে ফলে সেসমস্ত দেশের উৎপাদকরা এখন আরো কমমূল্যে তাদের পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন। আমাদের দেশের উৎপাদকদের তুলনায় একটি বাড়তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সক্ষমতার সুযোগ পাচ্ছেন ওইসব দেশের উৎপাদকরা। সেটি কিন্তু আমাদের জন্য একটি বাড়তি চাপ।

তিনি আরো বলেন, যদিও গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমতে থাকলেও বাংলাদেশে কমানো হয়নি। ঘোষণা এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই সরকারকে দু’এক মাস অপেক্ষা করতে হবে।