মেইন ম্যেনু

ত্বকের মেছতা ও বলিরেখার চিকিৎসায় কী করবেন?

প্রশ্ন : মুখের মেছতা এখনকার সময়ে মেয়েদের মধ্যে খুব প্রচলিত। একটু বলুন মুখের মেছতাজনিত সমস্যা বলতে কী বুঝি এবং কারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়?

উত্তর : মুখের মেছতা ও বলিরেখা এ দুটো জিনিস মেয়েদের জন্য একটি বিড়ম্বনাকর সমস্যা। মেছতা যদিও পুরুষদের দেখা দেয়, তবে মেয়েদের বেশি হয়। ২০-২৫ বছর বয়সের পর মেয়েদের বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের যাদের বাচ্চা হয়েছে, যারা পিল ব্যবহার করেন, তাদের এই হরমোনের কারণে মুখের দুই পাশের গালে খয়েরি রঙের, বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। আস্তে আস্তে এটা আরো গাঢ় হয়ে কালচেও হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি সূর্যের আলো পড়ে তখন দেখা যায় এটি আরো গাঢ় হয়ে গেছে। নারীরা প্রথমেই ক্রিম, স্নো বিভিন্ন কিছু মাখে। এর ফলে আরো জটিলতা নিয়ে তারা চিকিৎসকের কাছে আসে। মানুষের মুখের ত্বকে কোলাজেনের মতো একটি জালের মতো থাকে। মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, এই কোলোজেন জালটি আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। কোলাজেন জাল নষ্ট হলে মুখের যে ত্বক এখানে বলিরেখা দেখা দেয়। এটাও একটি বিব্রতকর সমস্যা। কারণ, মানুষের মুখে যদি ভাঁজ দেখা যায়, মহিলা ও পুরুষ সবাই একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। বিভিন্ন কারণে কোলাজেন নষ্ট হতে পারে। দেখা যায় যে যত্নের অভাবে কোলাজেন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সময়ের অনেক আগেই তাদের মুখে বলিরেখা দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন : মেছতা নিয়ে যখন আপনাদের কাছে রোগীরা আসছে, কী ধরনের সমস্যা থাকে তাদের?

উত্তর : প্রথমে আমরা তাদের মুখের দাগ দেখি। মেছতা খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। আমাদের কাছে আসে সমস্যা নিয়ে। দেখা যায়, আমাদের কাছে পৌঁছার আগে তিনি অনেক ক্রিম, স্নো ব্যবহার করে ফেলেছেন। এই সব ক্রিম স্নো ব্যবহারেও একধরনের জটিলতা দেখা দেয়। অনেকের হয়তো চামড়া পুড়ে যেতে পারে। অনেকের দেখা যায় বেশি গাঢ় হয়ে গেছে বা ক্ষত হয়ে গেছে। আমরা তখন প্রথমে তাদের বলি এই ধরনের ক্রিম, স্নো ব্যবহার করা বন্ধ রাখেন। এর নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা আছে। যেমন হাইড্রোকুইনো, সঙ্গে আমরা এসিটিটিনয়েন বা আইসিটিটিনয়েন এটা যোগ করে, সঙ্গে একটা হালকা এক ধরনের স্টেরয়েড এই তিনটির সম্মিলনে একধরনের ক্রিম আছে, তাদের বলি রাতে ব্যবহার করতে। সকালবেলা ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং দিনের বেলায় তিনি যেন রোদের আলোতে না যান। রোদের আলোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাকে একটি চিকিৎসকের মতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। যেগুলো ফার্মাসিটিউক্যালস প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এসপিএফ ৩০-এর নিচে আমাদের দেশে চলবে না। ৩০-এর ওপরে ৪৫ বা ৫০ এই ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। আমরা বলি যে, রাতে ওই ধরনের ক্রিম এবং দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে। দেখা যায় মেছতা সহজে ওষুধে ভালো করা যায় না। আমরা বলি, সূর্যের আলোতে যাবেন না। পরিবার পরিকল্পনার পিল ব্যবহার না করতে বলি। এর আরো কিছু চিকিৎসা আছে কেমিক্যাল পিলিং অথবা মাইক্রোডার্মাবেশন ও লেজার চিকিৎসা। যদিও লেজার চিকিৎসা অতটা ভালো ফল দেয় না, তবে কেমিক্যাল পিলিং ও মাইক্রোডার্মাবেশনে মোটামুটি দেখা যায়, মেছতা অনেকটাই পরিষ্কার করা যায়। এই চিকিৎসাটা ব্যয়বহুল। বিশেষ করে যাঁরা মিডিয়ার জগতে বা মানুষের সামনে বেশি আসেন, তাঁদের জন্যই সাধারণত পরামর্শগুলো দেওয়া হয়।

বলিরেখার ক্ষেত্রে কোলাজেন ইনজেকশন আছে একধরনের। এটি দিলে চামড়া আবার টান টান হয়ে যায়। তিন থেকে চার মাস বা ছয় মাস এর প্রভাবটা থাকে। আবার তাকে নিতে হয়। এটি অনেক ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে বটুক্সটা করা হয়। কোলাজেন এখনো বাংলাদেশে কেউ আনেননি। বটুক্স করলে তিন থেকে চার মাসের প্রভাব থাকে। এটা করলে দেখা যায় চামড়া টান টান অবস্থায় আসে এবং বলিরেখা তখন দেখা যায় না।

প্রশ্ন : মেছতা কি চিকিৎসায় ভালো হয় না?

উত্তর : বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে পুরো ভালো হয় না। কিছু না কিছু রয়ে যায়। ২০ ভাগ, ৩০ ভাগ থেকেই যায়।

প্রশ্ন : সে ক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর : সে ক্ষেত্রে খুব একটা করণীয় নেই। সান্ত্বনা দেওয়া যে আপনি এটা নিয়ে বেশি মন খারাপ করবেন না। রোদে তিনি যেন সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, আর যেন না বাড়ে। এ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করে মুখের ত্বকের আরো ক্ষতি না করা। সে ব্যাপারেও আমরা পরামর্শ দিই। এই সময় যে যা বলে সে সেটাই তখন ব্যবহার করতে তৈরি থাকে। ভাবে এটাতে সে ভালো হয়ে যাবে। স্টেরয়েড বেশিদিন ব্যবহার করলে মুখের ত্বক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই জন্য আমরা পরামর্শ দিই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সে যেন ওষুধটি ব্যবহার করে।

প্রশ্ন : কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়?

উত্তর : এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা করার প্রয়োজন পড়ে।

সূত্র: এনটিভি