মেইন ম্যেনু

থার্টি ফার্স্ট নাইটে নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত পুলিশ

থার্টি ফার্স্ট নাইটে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বশক্তি নিয়োগ করে মাঠে নেমেছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা, সিআইডি, এসবি, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। যেকোনো ধরণের নাশকতা এড়াতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, থার্টি ফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে হৈ-হুল্লোরের ভিড়ে জঙ্গিরা নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে পারে। এরকম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশেই উম্মুক্ত স্থানে সব ধরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন হিসেবে জেএমবির নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া এবং সম্প্রতি তাদের কয়েকটি আস্তানা খুঁজে পাওয়া নিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দেয়। কিন্তু তাদের অভিযান সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায় সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি। এজন্য তারা মিরপুরের ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ বোমা ও প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুদ করেছিল। গোয়েন্দারা সেটা গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হলেও যেসব জায়গায় নাশকতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেসব জায়গায় সতর্ক রয়েছে।

গোয়েন্দাদের মতে, রাজধানীতে সম্ভাব্য নাশকতার জায়গার মধ্যে খিলগাঁও, পল্টন, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা এবং ফার্মগেট রয়েছে। এসব এলাকায় গত কয়েকদিন আগেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীতে বড় ধরণের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল জেএমবির। এজন্য তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মিরপুরের বাসায় অপারেশনের আগের রাতে একজন জঙ্গি গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ায় বোমা তৈরির ওই আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে দেশের আরো কোথায় কোথায় এরকম আস্তানা রয়েছে সেসবও জানা যায়। তাদের তথ্যমতে চট্টগ্রামে বোমা তৈরির আস্তানা বের করা হয়। গাজীপুরেও বের করা হয়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মনিরুল ইসলাম আরো জানান, রাজধানীর যেসব জায়গায় সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ছিল সেসব জায়গায় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। জেএমবির জঙ্গিরা ধরা পড়লেও ওই সব জায়গায় ধরা না পড়ায় জঙ্গিরা নাশকতামুলক কাজ করতে পারে।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানীতে থার্টি ফার্স্ট নাইটে উম্মুক্তভাবে কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না। রাজধানীবাসীর চলাচলের ব্যাপারেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সন্ধ্যার পর কোনো ধরণের অনুষ্ঠান না করতে বিশেষভাবে বলেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে জেএমবির জঙ্গিদের নাশকতা চালানোর গোয়েন্দা তথ্য ছিল। যে কারণে সারাদেশে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান চালু রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। পুলিশ কাজ করছে। জনগনও জঙ্গিদের বয়কট করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একটি সূত্র বলছে, সারাদেশে পৌরসভার ভোট শেষে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে ব্যাপক গ্যাঞ্জাম হতে পারে। এ আশঙ্কায় সব ধরণের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। গুলশান, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মন্ত্রিপাড়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থ্রি স্টার ও ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর সামনেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।