মেইন ম্যেনু

থেকেই যাচ্ছে তারের প্যাঁচ

প্রায় পাঁচ বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। বৈঠক হচ্ছে। কমিটি হচ্ছে। কিন্তু রাজধানীর বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ঝুলন্ত তার (ইন্টারনেট, ডিশ, টেলিফোন পরিসেবার লাইন) সরছে না। এসব ঝুলন্ত তার অপসারণ করার পর আবার তা লাগানো হচ্ছে। তার অপসারণে বাধা হিসেবে কাজ করছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ীরা।

গত বছর বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু গত এক বছরে এ কমিটি উল্লেখ করার মতো কিছুই করতে পারেনি। এখন ওই কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে আরকেটি কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিদ্যুতের খুঁটিগুলো থেকে তারের জঞ্জাল দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১০ সালে। তার অপসারণ করার কারণে যাতে ইন্টারনেট, ডিশ সেবায় ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য ২০০৯ সালেই ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। ফাইবার অ্যাট হোম এবং সামিট কমিউনিকেশনস নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) লাইসেন্স দেয়া হয়। এই ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একই সঙ্গে ইন্টারনেট, কেবল টিভি নেটওয়ার্ক, ফোন অপারেটররা তাদের সেবা দিতে পারবে।

শুরুতে ফাইবার নেটওয়ার্কের সীমিত ব্যাপ্তির কারণে ঝুলন্ত তার পর্যায়ক্রমে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমে অপারেটরদের সময় দেয়া হয়। পরে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডিপিডিসি) ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ঝুলন্ত তার সরানোর কাজ শুরু করে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে এ কাজ শুরু হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন, ডিপিডিসি, ডেসকো, বিটিআরসি, আইএসপি এবং এনটিটিএন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এ কাজের তদারকি করে। সে সময় ২০১১ সালের ৩০ মের মধ্যে ঢাকার সব বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ঝুলন্ত তার সরিয়ে ফেলার ঘোষণাদেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে আবার বলা হয়, ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর প্রধান ১৬টি সড়কের তার অপসারণ করা হবে। কিছু এলাকায় তার সরিয়ে ফেলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। ব্যবসায়ীরা পুনরায় তার লাগানো শুরু করে।

এরপর গত বছর অক্টোবরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর সব ঝুলন্ত তার অপসারণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই সময় পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে তার অপসারণ না করলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি নিজ দায়িত্বে এসব তার কেটে দেবে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই প্রক্রিয়া আর এগুয়নি । এভাবে গত ৫ বছরে রাজধানীর প্রায় সব এলাকা অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় এলেও ঝুলন্ত তার সরানো সম্ভব হয়নি।
রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, মহল্লার অলি-গলিসহ সব বড় সড়কে এখনো ঝুলছে তার। সচিবালয়ের পাশেই খোদ ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয় বিদ্যুৎ ভবনের চারপাশে ঝুলছে নানা অপারেটরের এসব তারের জঞ্জাল।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূলত ক্যাবল টিভি এবং ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কারণে এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এদের সঙ্গে বৈঠক করলে ঝুলন্ত তার অপসারণে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার অপসারণ করতে গেলেই বাধা আসে।

সম্প্রতি তার অপসারণ কার্যক্রম আবার জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ বজলুর রহমান জানান, প্রতি সপ্তাহে শুক্র এবং শনিবার ঝুলন্ত তার অপসারণের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মতিঝিল এলাকার সব ঝুলন্ত তার সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলতি জুলাই মাসের ৫ তারিখ বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় ৷ বৈঠকে বিটিআরসির প্রতিনিধি জানান, তার অপসারণের পর আবার তা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। কোন অবস্থাতে যাতে ক্যাবল অপারাটেররা পুনরায় তার ঝুলাতে না পারে সে বিষয়ে মনিটরিং করা দরকার। কোনো প্রতিষ্ঠান তার অপসারণে বাধা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, অপসারণের পর আবার তার ঝুলানো ঠিক নয়। এর একটা স্থায়ী সমাধান করা হবে।