মেইন ম্যেনু

দক্ষিণাঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার

দুর্যোগ প্রবণ দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা বাংলাদেশে বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে নয়; প্রতিবছর ধারাবাহিক ভাবে এখন সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে বজ্রপাতে। সবশেষ চলতি মাসের ১২ ও ১৩ জুন বরিশাল জেলায় বজ্রপাতে তিন কৃষক ও একজন নারী মারা গেছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ৬ জন। এছাড়া গবাদিপশুর প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটেছে। বরিশাল ব্যতিত দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর সাড়ে তিন থেকে পাঁচ’শ মানুষ বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে। এ মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয় মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত। বর্ষা মৌসুমে বায়ু সক্রিয় থাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে চলতে থাকে বজ্রপাত। মেঘের সাথে মেঘের ঘর্ষণের ফলে সৃষ্টি হয় বজ্রপাত। যদিও সরকারি পর্যায়ে বজ্রপাতকে কোনো দুর্যোগ নয়, আপদ হিসেবেই আলোচনা করা হয়। হঠাৎ করে কেন বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে বজ্রপাতের সংখ্যা?

গবেষকদের ধারণা, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বঙ্গপসাগর পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই এখানে বজ্রপাত বেশি ঘটছে। এর সাথে আঞ্চলিক উষ্ণতা বৃদ্ধির নানা কারণও রয়েছে।

সূত্রমতে, গত ১৩ জুন দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় মুলাদী পৌর এলাকার পাতারচর গ্রামে বজ্রপাতে ফজলুল হক হাওলাদার (৫৫) নামের এক কৃষক ঘটনাস্থলেই মারা যান। সে ওই গ্রামের হোসেন হাওলাদারের পুত্র। ১২ জুন দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে একই গ্রামের ফজলে করিম সিকদারের পুত্র রুস্তুম আলী সিকদার (৫৫) ও আলিমুদ্দিন হাওলাদারের পুত্র ইসাহাক আলী হাওলাদার (৪০) নামের দু’কৃষক মারা গেছেন।

এসময় আহত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামের এক দিনমজুর। একইদিন চরহোগলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুরমা খানম ও আবু বক্কর সিদ্দিক বজ্রপাতে আহত হয়েছে। ওইদিন দুপুরে মাঠে গরু আনতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে হিজলা উপজেলা সদরের বাসিন্দা হাজেরা বেগম (৫০) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এসময় দুটি গবাদিপশু মারা যায়। আহত হন হাজেরার স্বামী রাজ্জাক সরদার। একইসময় উপজেলার মেমানিয়া গ্রামে বজ্রপাতে আহত হন নুরুল ইসলাম আকন। বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামের গ্রামপুলিশের দফাদার আবুল হোসেন বজ্রপাতে আহত হয়েছেন। মারা গেছে তার একটি গবাদি পশু। এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে অসংখ্য ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। গবেষকরা মনে করছেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ব্যক্তির সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। তবে এটিকে (বজ্রপাতকে) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হিসেবে গ্রহণ করতে উচিত বলেও গবেষকরা মনে করছেন।