মেইন ম্যেনু

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কমাতে চীন-ইরানকে নিয়ে পাকিস্তানের নয়া জোট!

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের প্রভাব কমাতে চীন-ইরানকে সঙ্গে নিয়ে ‘গ্রেটর সাউথ এশিয়া’ নামের একটি নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান।

ভারতের বিরোধিতার মুখে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। এ কারণে সার্কের ভবিষ্যতই শঙ্কায় পড়ে গেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনের বরাতে ভারতের হিন্দি দৈনিক জাগরণ বুধবার এ খবর দিয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের দফরে নিউ ইয়র্কে যায় পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানি সেনেটর মুশাহিদ হুসেন সৈয়দ বলেন, ‘ইতিমধ্যেই গ্রেটার সাউথ এশিয়া তৈরি হচ্ছে। তার মধ্যে থাকবে চীন, ইরান।’ এর মধ্যে ভারতকেও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই জোট আরো শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সংসদীয় দলের সদস্য সৈয়দ মুসাহিদ হোসেন দাবি করেছেন, চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যে এশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপুর্ণ অর্থনৈতিক রুট হিসেবে যোগসূত্র তৈরী করবে।

তিনি বলেন, চীন এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর জন্য নিকটবর্তী বন্দর হবে গোয়াদার বন্দর। ভৌগলিক গুরুত্বের কারণে শীতকালে এ বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ভারতকে এ জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুরোধ করছি।

জাগরণ জানায়, সার্কভুক্ত আটটি সদস্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। ভুটান একমাত্র দেশ যারা চারদিক দিয়ে ভারত বেষ্টিত। এ কারণে তারা ভারত বিরোধী কোন সিধান্ত নিতে পারে না। আর মালদ্বীপ,নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল। কিন্তু তাদের এতো শক্তি নেই যে, তারা ভারত বিরোধিতা করতে পারেন।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের জেষ্ঠ্য কূটনৈতিকের বরাতে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান অত্যান্ত সক্রিয়ভাবে নতুন আঞ্চলিক জোটের সম্ভাবনা যাচাই করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান মনে করে সার্কে ভারতের অধিপত্য বজায় থাকবে। এ জন্য পাকিস্তান ‘গ্রেটর সাউথ এশিয়া’ গঠনের চিন্তা করছে। পাকিস্তান মনে করে, নতুন এই আঞ্চলিক জোটের কারণে ভারত এখন আর কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে চীন চিন্তিত। তবে এ জোটে চীনের যোগদানের কারণে ভারত উদ্বিগ্ন। আর ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নতুন এই আঞ্চলিক জোটে অর্ন্তভুক্ত হয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে আবির্ভাব ঘটবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্কের বর্তমান সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কম সংখ্যকের ধারণা, স্থলপথটির সঙ্গে সংযুক্ত হতে বাংলাদেশ,নেপাল ও শ্রীলঙ্কা কোন উপকারে আসবে না। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব বন্দর রয়েছে। প্রস্তাবিত নয়া আঞ্চলিক জোটে আফগানিস্তান সুবিধা পাবে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে এ জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়া তাদের জন্য কঠিন হবে।

জাগরণ জানায়, পাকিস্তানের পত্রিকা ডন অন্য এক কূটনৈতিকের বরাতে জানায়, যদি পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট ‘গ্রেটর সাউথ এশিয়া’র স্বপ্ন পূরণ হয় তারপরেও এ কথার কোন গ্যারান্টি নেই যে ভারতের সঙ্গে বিরোধের জন্য অন্য দেশ পাকিস্তানের সঙ্গ দেবে। পাকিস্তানের প্রতি ইরানও তেমন খুশি নয়।