মেইন ম্যেনু

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন বিমানবন্দর

বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে তৃতীয় বিমানবন্দর তৈরি করছে চীন। সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রকাশিত এক স্যাটেলাইট ইমেজে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়। চলতি মাসের ৮ তারিখ প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট থেকে এই ছবিটি তোলা হয়েছে বলে জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন।

এশিয়া ম্যারিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভের প্রধান গ্রেগ পোলিং এবিষয়ে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের যে অঞ্চলটি নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মাঝে দ্বন্দ্ব বিরাজমান, সেই অঞ্চলেই তৃতীয় বিতর্কিত বিমানবন্দরটি তৈরি করছে চীন। আর এজন্য তারা ব্যবহার করছে প্রায় তিন হাজার মিটার ভূমি। এই বিমানবন্দরটি নির্মান যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে চীন এই তিনটি বিমানবন্দর থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির বিমান যেকোনো মুহূর্তে উড্ডয়ন করতে পারবে। দ্বীপগুলোতে অনেকদিন ধরেই চীন কাজ করছিল। আর তারা মাত্র এক বছরের মাথাতেই তারা বিমানবন্দরের কাজ শুরু করে।’

চীন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনামের মধ্যে কয়েকযুগ ধরে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরের আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ওই সমুদ্রসীমার মধ্যে থাকা যেকোনো দ্বীপে তাই চাইলেই কোনো রাষ্ট্র অবকাঠামো স্থাপন করতে পারে না। চলতি বছরের জুন মাসে চীন ঘোষণা দিয়েছিল যে, দ্বীপগুলোতে অবকাঠামো স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু তখন চীনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর নির্মানের কোনো কথা বলা হয়নি। চীন বিমানবন্দর নির্মানের বাইরেও জাহাজ চলাচলের চ্যানেল আরও প্রশস্ত করার কাজও সমান তালে এগিয়ে নিচ্ছে।

সাগরে চীনের এই নয়া আধিপত্যবাদী আচরণ ইতোমধ্যেই অন্যান্য দেশগুলোর নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে বিবৃতিও প্রদান করেছে। যদিও চীনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ চীন সাগরে স্থাপিত চীনের কোনো অবকাঠামোই কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দেখা দেবে না। গত বছর চীন তার প্রতিবেশিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, চীন গত ১৮ মাসে দক্ষিণ চীণ সাগরের প্রায় দুই হাজার একর সীমানার দখল নিয়েছে।