মেইন ম্যেনু

দরজায় কড়া নেড়ে বলতে চাই, আপনি ভাল আছেন তো?

প্রত্যেকের দরজায় কড়া নেড়ে বলতে চাই, আপনি ভাল আছেন তো, আপনার কী কোনো সহযোগিতা দরকার। আগামী ছয়মাসের মধ্যে নগরীর প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। প্রতিটি মহল্লায় বিট পুলিশিং চালু হবে, উঠোন বৈঠক করা হবে। পাড়া-মহল্লার সবার সাথে কমিশনার, ডিসি, ওসি ও দারোগাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পরিচয় থাকবে।

পুলিশ ও জনগণের মধ্যে এমন নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন ঢাকা মহানগরীর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। পুলিশ কমিশনার হিসেবে তিনি পুলিশকে জনবন্ধু, গণমুখী ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান। মানুষকে পুলিশের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চান। বর্তমানে প্রতিদিন নগরীতে ৫০টিরও বেশি উঠোন বৈঠক হচ্ছে। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়া শুরু করেছে পুলিশ।

বুধবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) এর অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এই স্বপ্নপূরণের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অনেকের কাছে এটা আকাশ-কুসুম কল্পনা মনে হতে পারে। কিন্তু সকলের সহযোগিতা পেলে এ স্বপ্ন অচিরেই পূরণ সম্ভব।

১৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের বক্তৃতায় পুলিশ কমিশনার পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা, মানুষের আচরণ ও গণমাধ্যম কর্মী বিশেষ করে ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকার ব্যাপারে বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নগরীর মানুষ পাশ্চাত্যের দেশের পুলিশের মতো সেবা প্রত্যাশা করে, তাদের মতো কুইক রেসপন্স (দ্রুত সাড়া পাওয়া) আশা করেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নগরবাসিন্দাদের আচরণ কী পাশ্চাত্যের মানুষের মতো। পাশ্চাতের মানুষ আইন মেনে চলে আর নগরবাসিন্দাদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা প্রবল।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পুলিশ কমিশনার বলেন, ছয়মাস আগে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি (ইন্টার সেকশন) সিগন্যালের ভিডিওচিত্র ধারণ করেন ।

ভিডিও পর্যালোচনা করে তিনি দেখেন, যারা ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন না তাদের শতকরা ৮০ ভাগ সমাজের গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সিগন্যাল অমান্য করে উল্টো রাস্তায় গাড়ি হাঁকান তারা।

তিনি বলেন, আমরা পুলিশের কাছে পাশ্চাতের মতো সেবা প্রত্যাশা করবো আর আইন মানবো না তা হতে পারেনা। নগরবাসিন্দাদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার ক্রাইম রিপোর্টারদের উদ্দেশ্য বলেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ক্রাইম রিপোর্টারা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কর্মীরা সমাজে ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করছে। অনেক ঘটনার খবর পুলিশের কাছে আসে না। ক্রাইম রিপোর্টারদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দিতে হয়।

তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ কিংবা সমালোচনা করতে বাধা নেই কিন্তু অনেক সময় প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সঠিক তথ্য না জেনে অনেকে ‘জাজমেন্টাল’ প্রতিবেদন তৈরি করেন যা পুলিশের সঠিক তদন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হয়।

তার মতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, জাজমেন্টাল প্রতিবেদনে জনমত গড়ে ওঠায় অনেক সময় তদন্তে ব্যতিক্রম পাওয়া গেলেও তা প্রকাশ করতে বিব্রত হতে হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, অন্যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলোরেন্স ভূমিকায় থাকবে। পুলিশের মধ্যে কেউ বিপথে গেলে তার দায় সংগঠন বা পুলিশের নয়, ওই ব্যক্তির।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী একমাত্র বাহিনী যারা নিজেরা পরিবর্তিত হতে চায়। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন, ১৮৯৮ সালের সিআরপিসি দিয়ে এক বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায় না। ২০০৬ সাল থেকে তারা একটি যুগপোযোগী অর্ডিন্যান্স করার প্রচেষ্টা চালালেও এখনও পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়ক ভূমিকায় দেখতে চান।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম কর্মীরা পুলিশের দোষ দেখলে যেমন সমালোচনা করেন তা যেমন ঠিক তেমনি ভাল কাজ করলেও প্রশংসা করা উচিত। ৫০ লাখ টাকা চুরি ও ছিনতাই হলে পুলিশের সমালোচনা করে বড় বড় হেডিং হয় আর যখন পুলিশের সদস্য ৫০ লাখ টাকা রাস্তায় পেয়ে মালিককে খুঁজে বের করে ফেরত দেয় তখন কয়টা কাগজে বড় হেডলাইন হয় তা জানতে চান।

তিনি আরো বলেন, মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে পুলিশের কাছে আসতে হবে। তাই তিনি পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে চান বলে মন্তব্য করেন।