মেইন ম্যেনু

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘হেলথ কার্ড’

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন বছরের শুরু থেকে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেছেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করে দরিদ্র পরিবারকে এই স্বাস্থ্যকার্ড দেয়া হবে। জানুয়ারিতে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় একলাখ দরিদ্র পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচি চালু করা হবে। কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে ৫০টি রোগের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হবে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে পাইলট প্রকল্প কর্মসূচি পরিচালনায় ‘গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় এটি চালু করা হচ্ছে। তিন উপজেলা হলো কালিহাতি, মধুপুর ও ঘাটাইল। উপজেলার একলাখ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিবার প্রতি বার্ষিক এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম হিসাবে সরকার দেবে এবং প্রত্যেক পরিবার বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

পাইলট চলাকালে এই প্রিমিয়ামের অর্থসহ প্রকল্পের যাবতীয় ব্যয় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টরের উন্নয়ন কর্মসূচি হতে সংস্থান করা হবে। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ এবং সচ্ছল পরিবারের নিকট থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে কর্মসূচিটির অর্থায়ন করা হবে।

তিনি আরো জানান, পাইলট কর্মসূচির অধীনে নির্দিষ্ট সূচক ব্যবহার করে পাইলট এলাকায় দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারি পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পরিবারকে স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা রোগ নির্ণয়, ওষুধপত্রসহ ৫০টি রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন।

দেশের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার আরো নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাস্তবায়নে দরিদ্র মানুষের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এই ‘স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।