মেইন ম্যেনু

দর্শক ফেরাতে পঞ্চগড়ে বৈশাখী যাত্রাপালা

যাত্রাপালা। নামটির সাথে সব বয়সের মানুষ কমবেশি পরিচিত। কিন্তু প্রকৃত যাত্রা শিল্প সম্পর্কে খুব একটা পরিচত নয় নতুন প্রজন্ম। তাদের অনেকেই যাত্রা শিল্প নিয়ে ভিন্ন ধারণা পোষণ করেন।

অনেকেই মনে করেন, যাত্রা মানেই আনাড়ি অভিনয়ের মাঝে সস্তা শিল্পীদের অশ্লীল নৃত্য। ফলে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

তবে যাত্রার সাথে জড়িত প্রবীন শিল্পীদের দাবি, যাত্রাপালায় নৃত্যের প্রচলন নতুন নয়। যে কোনো যাত্রাপালায় নৃত্য গুরুত্বপুর্ণ একটি অংশ। কিন্তু এই নৃত্যে অশ্লীলতা ঢুকে ধীরে ধীরে যাত্রাপালার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অশ্লীল নৃত্য।

হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃত যাত্রাপালা। নেই আর মঞ্চ কাঁপানো সেই অভিনয়। তাই যাত্রাপালার এখন আর দর্শক নেই বললেও চলে।

তবে প্রকৃত যাত্রাপালার ঐতিহ্যগত সেই ধারা ফিরিয়ে আনতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে দিশারী নাট্যগোষ্ঠি নামে পঞ্চগড়ের একটি সংগঠন। বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে সংগঠনটি দুইটি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ করবে। এজন্য ১৫ দিন ধরে সংগঠনের সদস্যরা সরকারি অডিটোরিয়ামে রিহার্সেল করছেন এর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পহেলা বৈশাখ রাত ৮ টায় ‘একটি পয়সা’ এবং ২ বৈশাখ একই সময় ‘দেবী সুলতানা’ নামে দুইটি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে। ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায় রচিত যাত্রাপালা দুইটির নির্দেশনায় থাকবেন দিশারী নাট্যগোষ্ঠির নির্দেশক আক্তারুজ্জামান বাশার এবং সংগঠনের সদস্যরাই এতে অভিনয় করবেন। তবে নারী চরিত্রে কয়েকজন অতিথি শিল্পী থাকবেন।

১৯৯৭ সালে ২৫ জন সদস্য নিয়ে দিশারী নাট্যগোষ্ঠির পথচলা শুরু। এটি তাদের ৩৭ নং পরিবেশনা। সংগঠনের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, যাত্রা একটি আদি সংস্কৃতি। অশ্লীলতার কারণে শিল্পীরা আজ প্রকৃত যাত্রাপালাতেও অভিনয় করতে চান না। যাত্রা শিল্পে হারিয়ে যাওয়া দর্শকদের ফেরাতে আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।’



« (পূর্বের সংবাদ)