মেইন ম্যেনু

দলীয় নেতাদের ধন্যবাদ দিলেন শেখ হাসিনা

পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ৮টার দিকে গণভবন থেকে বেরিয়ে যান তারা। গণভবন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ডা. দীপু মনিসহ দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ গণভবনে যান। সেখানে তারা পৌরসভা নির্বাচন এবং আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যানির্বাহী কমিটির সভা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় পৌর নির্বাচনের সময় ধানমন্ডি কার্যালয় ছাত্রলীগের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের দিয়ে সরগরম রাখার কৌশলের প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, এবার পৌর নির্বাচনে কয়েক দিন আগে থেকে ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী তদারক টিমের নেতৃবৃন্দকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি লিয়াকত শিকদার। ফলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় দীর্ঘক্ষণ কার্যালয়ে অবস্থান করে কর্মমুখর রাখেন।

সূত্র আরো জানায়, আগামী ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বৈঠকের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দফতর সম্পাদক গোলাপ দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সংযোগবিচ্ছিন্ন পান। এরপর সৈয়দ আশরাফের ব্যক্তিগত সহকারীকে ফোন করে বৈঠকের তারিখ অবহিত করেন গোলাপ।

বৈঠক সূত্র আরো জানায়, দলীয় সভানেত্রী হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে পৌরসভা নির্বাচনের আগের কয়েক দিন রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান করে নিরবিচ্ছিন্ন পরিশ্রম করার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি দলীয় অন্য নেতাদেরও ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

বুধবার ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে। এর মধ্যে একটি পৌরসভার ভোট গ্রহণ গোলযোগের কারণে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ২২৭টি মেয়র পদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে ১৭৭টিতে, আর বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২২টিতে জয় পেয়েছেন। জাতীয় পার্টি ১টিতে এবং বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে বিএনপি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পরপরই দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায় প্রত্যাখান করে বিএনপি জনগণকে অপমান করেছে। জনগণ যে রায় দিয়ছে, সে রায় প্রত্যাখান করার ঘোষণা দিয়ে বিএনপি প্রকারান্তরে জনগণের রায়কে অপমান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করি, তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।’

এ ছাড়া গত সোমবার বিকেলে একই কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হবে।’ পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, শেখ হাসিনার মার্কা এবং মুক্তিযুদ্ধের মার্কা ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।