মেইন ম্যেনু

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে আপত্তি বিএনপির

স্থানীয় সব নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে করার ব্যাপারে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আপত্তি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা, মামলার কারণে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেয়া দুরুহ হয়ে উঠবে সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়।

আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে করার প্রস্তাব আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারণ আমরা ক’দিন আগে সরকারের এমনি ভাবনার খবর জেনে প্রতিবাদ করেছিলাম এবং দাবি তুলেছিলাম-এ বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যেন সংশ্লিষ্ট সব মহলের মতামত যাচাই করা হয়। কিন্তু সরকার আমাদের সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে একগুঁয়েমি মনোভাব প্রদর্শন করে আজ এ সংক্রান্ত পাঁচটি আইনের সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে তড়িঘড়ি করে অনুমোদন করেছে।”

দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান অর্ধেক নারী জনপ্রতিনিধি দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের বিরোধিতা করেছেন। আমরাও মনে করি, এর ফলে স্বপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পাবে।”

রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত এবং নির্বাচন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এমন দাবি করে রিপন বলেন, “এখানে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র-সমাজ আরও বেশি বিভাজিত হয়ে পড়বে। তাছাড়া, বর্তমান নতজানু ও সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে ভোট দেয়ার অধিকার রক্ষা করতে সমর্থ নন। দলবাজ প্রশাসন সরকারের আজ্ঞাবাহী হিসেবে সরকারের নীল নকশার বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে অক্ষম।”

দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হলে সম্পত্তির ওয়ারিশ নির্ধারণ, নাগরিক সনদ ও চারিত্রিক প্রত্যয়নপত্রসহ দৈনন্দিন সাধারণ নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তিতে নাগরিকদের দলীয় পরিচয়ের কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা থাকবে বলেও দাবি করেন রিপন।

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও সেসব দেশের রাজনৈতিক চর্চা আমাদের দেশের থেকে ভিন্ন। সেখানকার প্রশাসন নিরপেক্ষ এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেন।”

সরকার এক সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের এক মহা-দুরভিসন্ধি কাজ করছে বলেও মনে করেন বিএনপির মুখপাত্র। তিনি নির্বাচনী আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।