মেইন ম্যেনু

দল নয়, নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত আব্বাস-সোহেল

ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে নগর বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে অনেকটাই হতাশ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কেননা নগর বিএনপির দুই কাণ্ডারি মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দলের চেয়ে নিজেদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা দু’জনই বিএনপির সব কর্মসূচি এড়িয়ে চলছেন।

তাদের কর্মসূচি এড়িয়ে চলার বিষয়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই আব্বাস-সোহেল গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তারা কোনো দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন না। তাদের মত, সব নেতা গ্রেপ্তার হলে আগামী দিনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন কারা?

বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুরে তার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। বাসা থেকে তেমন একটা বের হন না। বিশেষ কেউ ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে তিনি দেখাও করেন না।

অপরদিকে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও রমনা ইস্টার্ন সার্কিট হাউজ রোডে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। তিনিও দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে দেখা করেন না। আব্বাস ও সোহেলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও গত ৫ জানুয়ারির আন্দোলনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির পদ-পদবী পাওয়া নিয়েও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্য দ্বন্দ্ব চলছে। এ জন্য তারা আব্বাস ও সোহেলকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, মহানগর বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতাই পদ-পদবী নিয়ে যদি রাজপথ ছেড়ে ঘরে বসে থাকেন তাহলে তারা বসে থাকলে দোষ কোথায়? পদ-পদবী মূখ্য বিষয় হয়ে পড়ায় আন্দোলনে কেউ মনোনিবেশ করতে পারছে না এবং আন্দোলন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে কথা হয় হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের। তখন তিনি বলেন, ‘রাজপথে নামলেই সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি গুলি করে। এ পরিবেশে আমরা কীভাবে রাজপথে থাকতে পারি? এ জন্য নিজেদের রক্ষা ও আন্দোলনকে একটি সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমরা ভেতরে ভেতরে কাজ করছি। সঠিক সময়ে আমাদের রাজপথে দেখতে পাবেন।’

আগের ঢাকা মহানগর কমিটির মতোই নবগঠিত নগর বিএনপির কমিটিও ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে দলের কয়েকজন নেতা জানান, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন শুধুই দ্বন্দ্ব। সবাই পদ-পদবী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তারা যদি নিজেরা নিজেরাই যুদ্ধ করে, তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে কীভাবে?

তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আন্দোলনের পরিকল্পনা করছি। সঠিক সময়ে আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে আপনারা রাজপথে পাবেন।’

এক বছরেও কমিটি দিতে ব্যর্থ আব্বাস-সোহেল
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপি ব্যর্থ হওয়ায় অনেকটাই ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। রাজধানীতে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে বেগম খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। তবে ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয় এই নতুন কমিটির কার্যক্রম। ২০১৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিল না নতুন কমিটির কোনো নেতাকর্মী।

রাজধানী ঢাকায় সর্বমোট ১০০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোতে এক মাসের ভেতরেই কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বেগম জিয়া। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন তিনি। তবে তার এই নির্দেশ কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এক বছরের অধিক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কমিটিই ঘোষণা করা হয়নি।

চেয়ারপারসনের এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল বলেন, ‘কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় সব চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু হামলা-মামলা এড়াতে কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

একই বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। বাংলামেইল



(পরের সংবাদ) »