মেইন ম্যেনু

দশ দিনের বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করছে রাবি প্রশাসন

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি: দশ দিনের বেশি সময় ধরে বিভাগ কিংবা অনুষদে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ একটি নির্দেশনা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দশ দিনের বেশি সময় শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকলে তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে তথ্য দিতে হবে।

এই নির্দেশনার পর গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বিভাগগুলোতে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই চিঠির উত্তর বিভাগগুলো থেকে পেলেই শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে তথ্য হাতে আসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রক্টর দপ্তর থেকেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এ কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মজিবুল হক আজাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন কোন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তা নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নেয়ার পরই এ বিষয়ে জানানো হবে বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকায় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ দিন বা এর বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে গত রোববার ( ১০ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশও জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা দশ দিনের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তার তালিকা করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের ছবি আইএস প্রকাশ করেছিল, যারা সবাই গত কয়েক মাস নিখোঁজ ছিলেন বা পরিবারের যোগাযোগের বাইরে ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এরপর ঈদের দিন শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত যুবকও গত মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

এই ছয়জনের মধ্যে চারজনই বিভিন্ন ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। তাদের দুজন ঢাকার নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন, একজন ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের বহু ছেলে এভাবে বাড়ি ছেড়ে জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের সতর্ক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে অভিভাবকদের তথ্য দিতে অনুরোধ করেছেন।